০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভ/য়াবহ সড়ক দুর্ঘ/টনা: বাস-ট্রাক সংঘ/র্ষ ও বাসচা/পায় নি/হ/ত ৬, আ/হ/ত অন্তত ৩০

খুলনার ডুমুরিয়ায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন এবং অন্য ঘটনায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন। পরপর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল এলাকার ডাঙ্গীর পাড়ে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এর আগে একই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দূরপাল্লার ‘ইমাদ পরিবহন’-এর একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় বাসের ভেতর থেকে আহত ও রক্তাক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্রেনের সাহায্যে উল্টে যাওয়া বাসের নিচ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ট্রাকচালক জিন্নাত (৪৭) নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। ট্রাকচালক ছাড়া নিহত অপর তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল মোড়ে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির ‘ইমাদ পরিবহন’-এর একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ডুমুরিয়ার নরনিয়া গ্রামের বারিক গাজীর ছেলে আবদুর রউফ গাজী (৪৫) এবং একই গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস সরদার (২৪)। আবদুর রউফ চুকনগরের মালতিয়া মোড়ে অবস্থিত ‘গাজী ইয়াছিন মৎস্য আড়ৎ’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ইউনুস ওই আড়তের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত ১৪ অক্টোবরও ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া এসিজিবি স্কুলের সামনে ইমাদ পরিবহনের অপর একটি বাসের ধাক্কায় শোভনা ইউনিয়নের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মিলন কুমার ভদ্র (৫৩) নিহত হন।

একই সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, মহাসড়কে যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।

খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনশি পারভেজ হাসান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের খাদে বা পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ আটকে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Tag:
জনপ্রিয়

ডুমুরিয়ায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভ/য়াবহ সড়ক দুর্ঘ/টনা: বাস-ট্রাক সংঘ/র্ষ ও বাসচা/পায় নি/হ/ত ৬, আ/হ/ত অন্তত ৩০

ডুমুরিয়ায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভ/য়াবহ সড়ক দুর্ঘ/টনা: বাস-ট্রাক সংঘ/র্ষ ও বাসচা/পায় নি/হ/ত ৬, আ/হ/ত অন্তত ৩০

আপডেট সময়: ০৯:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন এবং অন্য ঘটনায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন। পরপর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল এলাকার ডাঙ্গীর পাড়ে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এর আগে একই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দূরপাল্লার ‘ইমাদ পরিবহন’-এর একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় বাসের ভেতর থেকে আহত ও রক্তাক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্রেনের সাহায্যে উল্টে যাওয়া বাসের নিচ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ট্রাকচালক জিন্নাত (৪৭) নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। ট্রাকচালক ছাড়া নিহত অপর তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল মোড়ে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির ‘ইমাদ পরিবহন’-এর একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ডুমুরিয়ার নরনিয়া গ্রামের বারিক গাজীর ছেলে আবদুর রউফ গাজী (৪৫) এবং একই গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস সরদার (২৪)। আবদুর রউফ চুকনগরের মালতিয়া মোড়ে অবস্থিত ‘গাজী ইয়াছিন মৎস্য আড়ৎ’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ইউনুস ওই আড়তের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত ১৪ অক্টোবরও ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া এসিজিবি স্কুলের সামনে ইমাদ পরিবহনের অপর একটি বাসের ধাক্কায় শোভনা ইউনিয়নের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মিলন কুমার ভদ্র (৫৩) নিহত হন।

একই সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, মহাসড়কে যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।

খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনশি পারভেজ হাসান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের খাদে বা পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ আটকে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।