ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের প্রাচুর্য নিশ্চিত করতে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে পটুয়াখালীর সাগর ও নদ-নদীতে শুরু হচ্ছে জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত টানা আট মাস এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
মৎস্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময় ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের সব ধরনের জাটকা ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বিনিময় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব কার্যক্রমে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের এক বছর থেকে দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
এদিকে, জাটকা সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে পটুয়াখালীতে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা তেমন একটা চোখে পড়েনি। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাটকা রক্ষায় জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সমন্বয়ে জেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য বিভাগ।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের সহায়তায় সরকার বিশেষ খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় পটুয়াখালী জেলার নিবন্ধিত ৭৯ হাজার জেলেকে চার মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত হবে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের জীবিকা ও দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে।
তাই জাটকা রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
সুনিল সরকার, পটুয়াখালী: 











