দিনভর ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ৫৭ বছর বয়সী জামির মোড়ল। পরিবারের প্রয়োজনে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন ৩০ হাজার টাকা। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই মূল টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। কিন্তু এরপরও অতিরিক্ত সুদের টাকা দাবির অবসান হয়নি। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই ভ্যানচালক।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর খেয়াঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত জামির মোড়ল স্থানীয় হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় স্থানীয় সালাম ও তাঁর ভাগ রসুলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জামির মোড়ল পেশায় একজন ভ্যানচালক। পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে এবং পূর্বপরিচয়ের সুবাদে প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সালাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের জন্য তাঁকে চার মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ধার নেওয়া সম্পূর্ণ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে মূল টাকা ফেরত দেওয়ার পরও সালাম অতিরিক্ত সুদের টাকা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ জামিরের।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো নিজের ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জামির মোড়ল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসানপুর খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে সালাম ও তাঁর ভাগনে রসুল তাঁর ভ্যানের গতিরোধ করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর কাছে অতিরিক্ত সুদের টাকা দাবি করেন। কিন্তু ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে আর কোনো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান জামির। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে সালাম ও তাঁর ভাগ্নে রসুল জামির মোড়লের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে পিটিয়ে জখমে করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা আহত জামির মোড়লকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে আহতের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ধার নেওয়া ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও অতিরিক্ত সুদের টাকা দাবি করা হচ্ছিল। আর কোনো টাকা পাওনা না থাকলেও তাঁকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ভ্যানচালক দিনভর পরিশ্রম করে সংসার চালান। তাঁর ওপর এমন হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা।”
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আহত জামির মোড়ল বাদী হয়ে স্থানীয় হাসানপুর গ্রামের সালাম ও তাঁর ভাগ্নে রসুলের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সালাম ও তাঁর ভাগনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খান আরিফুজ্জামান নয়ন, ডুমুরিয়া, খুলনা: 











