০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক সাবেক ইউপি সদস্য

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একের পর এক এসব চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে গভীর রাতে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. মনির মীর।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক মনির মীর গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোলখালী গ্রামের বাসিন্দা আ. কাদের মীরের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নলুয়াবাগী গ্রামের কয়েকজন জেলে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা দেখতে পান, এক ব্যক্তি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পরিচয় নিশ্চিত হন। আটক ব্যক্তি সাবেক ইউপি সদস্য মনির মীর বলে জানা যায়।

এরপর তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা মনির মীরকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ ট্রান্সফরমার খোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকার পরিবারগুলো। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে সময় লাগায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ওই এলাকার প্রায় ২৫টি পরিবার টানা এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর এর সরাসরি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী হয়ে মামলা না করলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag:
জনপ্রিয়

মধ্যরাত থেকে শুরু ৮ মাসের জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা, আইন অমান্যে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক সাবেক ইউপি সদস্য

আপডেট সময়: ০৭:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একের পর এক এসব চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে গভীর রাতে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. মনির মীর।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক মনির মীর গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোলখালী গ্রামের বাসিন্দা আ. কাদের মীরের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নলুয়াবাগী গ্রামের কয়েকজন জেলে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা দেখতে পান, এক ব্যক্তি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পরিচয় নিশ্চিত হন। আটক ব্যক্তি সাবেক ইউপি সদস্য মনির মীর বলে জানা যায়।

এরপর তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা মনির মীরকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ ট্রান্সফরমার খোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকার পরিবারগুলো। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে সময় লাগায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ওই এলাকার প্রায় ২৫টি পরিবার টানা এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর এর সরাসরি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী হয়ে মামলা না করলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।