পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের নতুন লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নামে ঘুষ দাবির অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন (৪২) নামে এক শ্রম পরিদর্শককে আটক করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল রাত ১০টার দিকে কুয়াকাটার প্যালেস হোটেল ও হোটেল শৈবালে লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। আটক শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের অভিযোগ, শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবাসিক হোটেলগুলোকে এ, বি ও সি—এই তিন ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এসব লাইসেন্স নবায়নের সরকারি ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে গোপনে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে আসছিলেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন হোটেল মালিকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, “শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হবে।”
এ ঘটনায় কুয়াকাটার হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন কার্যক্রমে হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সুনিল সরকার, পটুয়াখালী: 











