পটুয়াখালীতে দুইটি কুকুরকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাঠিপেটা করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুইটি বেওয়ারিশ কুকুরকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা টি-শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এবং লুঙ্গি পরিহিত আরেক ব্যক্তি দুইটি কুকুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। তাদের দুজনের হাতেই লাঠি ছিল। সাদা টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তিটি প্রথমে একটি লাল রঙের কুকুরকে বারবার লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে কালো-সাদা রঙের আরেকটি কুকুরকেও একইভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ভিডিওতে কুকুর দুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়তে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকারী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় প্রকাশ্যে দুইটি বেওয়ারিশ কুকুরকে লাঠিপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাই ভিডিওটি সংযুক্ত করে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা বা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ৬ ধারায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিওসহ অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইশরাত লিটন: 











