০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বরগুনায় তরুন সংগঠকদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

​’টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বরগুনার আরডিএফ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, বরগুনা এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

​সনাক এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান।

​কর্মশালার শুরুতে পরিচিতি পর্ব শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাকের সহ-সভাপতি ও ইয়েস গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মনিজা। তিনি বলেন, “দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করবে।”

​কর্মশালার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর ফিরোজ উদ্দীন। মূল আলোচনায় কাজী শফিকুর রহমান স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা চ্যালেঞ্জ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সুশাসনে নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

​অনুষ্ঠানের দলগত কাজ ও মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী ৫০ জন তরুণ প্রতিনিধি ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কৌশল নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

​কর্মশালার সমাপনী পর্বে উপস্থিত তরুণ সংগঠকদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান। এ সময় তরুণরা একটি নৈতিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

​সমাপনী বক্তব্যে সনাক সভাপতি বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের নেতৃত্বেই সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। তরুণরাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।”

​উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই আয়োজনে জেলার ২৬টি স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তরুণরা নিজ নিজ এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

Tag:

টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বরগুনায় তরুন সংগঠকদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময়: ০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

​’টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বরগুনার আরডিএফ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, বরগুনা এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

​সনাক এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান।

​কর্মশালার শুরুতে পরিচিতি পর্ব শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাকের সহ-সভাপতি ও ইয়েস গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মনিজা। তিনি বলেন, “দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করবে।”

​কর্মশালার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর ফিরোজ উদ্দীন। মূল আলোচনায় কাজী শফিকুর রহমান স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা চ্যালেঞ্জ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সুশাসনে নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

​অনুষ্ঠানের দলগত কাজ ও মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী ৫০ জন তরুণ প্রতিনিধি ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কৌশল নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

​কর্মশালার সমাপনী পর্বে উপস্থিত তরুণ সংগঠকদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান। এ সময় তরুণরা একটি নৈতিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

​সমাপনী বক্তব্যে সনাক সভাপতি বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের নেতৃত্বেই সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। তরুণরাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।”

​উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই আয়োজনে জেলার ২৬টি স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তরুণরা নিজ নিজ এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।