০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেদের ভিড়, চলছে প্রকৃত জেলে শনাক্ত

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকায় জেলে তালিকা হালনাগাদ ও প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনওর উদ্যোগে বছরে বয়স্কভাতার ৬৬ লাখ টাকার অপচয় বন্ধ হলো এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো লঞ্চঘাটে জাল ও নৌকাসহ হাজির হন শতাধিক জেলে। সকালের পর থেকেই ঘাটজুড়ে দেখা যায় জেলে নৌকার সারি। নৌকায় বৈঠা হাতে বসে আছেন জেলেরা, কোন কোন নৌকায় রয়েছে মাছ ধরার জাল। অনেকের সঙ্গে এসেছেন পরিবারের সদস্যরাও। নারী জেলেদের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। পুরো ঘাটজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, তবে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় ছিল উদ্বেগও। এসময় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনেক নিবন্ধনকৃত জেলে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা পৌর এলাকার জেলে তালিকা প্রণয়ন নিয়ে নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কথা উঠে আসছিল। প্রকৃত জেলেদের বাদ পড়ে যাওয়া এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের পর প্রশাসন নতুনভাবে যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইউসুফুল ইসলাম, গলাচিপা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আউয়াল এবং গলাচিপার জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক।

এই কমিটিকে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পৌর এলাকার জেলে মো. বাদল জানান, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সকাল থেকেই ঘাটে অবস্থান করছেন তিনি। এ কারণে সেদিন মাছ ধরতে যেতে না পারায় তার দৈনিক আয়েরও ক্ষতি হয়েছে।

একইভাবে নারী জেলে নাসিমা বলেন, “আমি ও আমার স্বামী দুজনই মাছ ধরি। আগের তালিকায় আমাদের নাম ছিল। নতুন তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে দুজনই একসঙ্গে এসেছি।”

মৎস্য অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, পৌর এলাকার জেলে তালিকায় আগে ২৬৭ জনের নাম থাকলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৪৯৩ জনে পৌঁছায়। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় প্রকৃত জেলে শনাক্ত করে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে সরেজমিন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, “আগে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে তালিকা করা হতো। এবার সরেজমিনে জাল ও নৌকাসহ উপস্থিত থেকে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত জেলেদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়।”

প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেদের ভিড়, চলছে প্রকৃত জেলে শনাক্ত

গলাচিপায় জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেদের ভিড়, চলছে প্রকৃত জেলে শনাক্ত

আপডেট সময়: ১২:১০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকায় জেলে তালিকা হালনাগাদ ও প্রকৃত মৎস্যজীবী শনাক্তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনওর উদ্যোগে বছরে বয়স্কভাতার ৬৬ লাখ টাকার অপচয় বন্ধ হলো এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো লঞ্চঘাটে জাল ও নৌকাসহ হাজির হন শতাধিক জেলে। সকালের পর থেকেই ঘাটজুড়ে দেখা যায় জেলে নৌকার সারি। নৌকায় বৈঠা হাতে বসে আছেন জেলেরা, কোন কোন নৌকায় রয়েছে মাছ ধরার জাল। অনেকের সঙ্গে এসেছেন পরিবারের সদস্যরাও। নারী জেলেদের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। পুরো ঘাটজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, তবে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় ছিল উদ্বেগও। এসময় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনেক নিবন্ধনকৃত জেলে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা পৌর এলাকার জেলে তালিকা প্রণয়ন নিয়ে নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কথা উঠে আসছিল। প্রকৃত জেলেদের বাদ পড়ে যাওয়া এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের পর প্রশাসন নতুনভাবে যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইউসুফুল ইসলাম, গলাচিপা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আউয়াল এবং গলাচিপার জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক।

এই কমিটিকে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পৌর এলাকার জেলে মো. বাদল জানান, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সকাল থেকেই ঘাটে অবস্থান করছেন তিনি। এ কারণে সেদিন মাছ ধরতে যেতে না পারায় তার দৈনিক আয়েরও ক্ষতি হয়েছে।

একইভাবে নারী জেলে নাসিমা বলেন, “আমি ও আমার স্বামী দুজনই মাছ ধরি। আগের তালিকায় আমাদের নাম ছিল। নতুন তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে দুজনই একসঙ্গে এসেছি।”

মৎস্য অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, পৌর এলাকার জেলে তালিকায় আগে ২৬৭ জনের নাম থাকলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৪৯৩ জনে পৌঁছায়। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় প্রকৃত জেলে শনাক্ত করে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে সরেজমিন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, “আগে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে তালিকা করা হতো। এবার সরেজমিনে জাল ও নৌকাসহ উপস্থিত থেকে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত জেলেদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়।”

প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন।