১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে অটোরিকশাচালককে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৈত্রিক ওয়ারিশী সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং এর প্রতিবাদ করায় মোঃ বাদল হাওলাদার (৫৫) নামের এক অটোরিকশাচালককে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় তার সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকার সিরাজ ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকের স্ত্রী মোসাঃ নিরু বেগম বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত বাদল হাওলাদার উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে অটোরিকশাচালক বাদল হাওলাদারের সাথে তার প্রতিবেশী মোঃ ইব্রাহিম (২৬), মোঃ সরোয়ার মৃধা (৪৫), মোঃ কবির মৃধা ও মোঃ সেলিম বিশ্বাসদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশ-মিমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৫ জুন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদল হাওলাদার তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। বাদল হাওলাদারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা চালকের সাথে থাকা ১৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি টাচ মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ ১০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কবির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলে বরিশালে থাকে। এই ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

এদিকে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

মির্জাগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে অটোরিকশাচালককে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

আপডেট সময়: ১০:১৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৈত্রিক ওয়ারিশী সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং এর প্রতিবাদ করায় মোঃ বাদল হাওলাদার (৫৫) নামের এক অটোরিকশাচালককে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় তার সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকার সিরাজ ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকের স্ত্রী মোসাঃ নিরু বেগম বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত বাদল হাওলাদার উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে অটোরিকশাচালক বাদল হাওলাদারের সাথে তার প্রতিবেশী মোঃ ইব্রাহিম (২৬), মোঃ সরোয়ার মৃধা (৪৫), মোঃ কবির মৃধা ও মোঃ সেলিম বিশ্বাসদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশ-মিমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৫ জুন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদল হাওলাদার তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। বাদল হাওলাদারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা চালকের সাথে থাকা ১৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি টাচ মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ ১০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কবির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলে বরিশালে থাকে। এই ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

এদিকে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।