১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পারাপার: চরম ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের দুশমির খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেতুটির মাঝখানের ঢালাই ধসে গিয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িকভাবে কাঠের তক্তা বিছিয়ে এর ওপর দিয়ে যাতায়াত করলেও, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের অন্তত ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের পর গত ২১ বছরেও সেতুটিতে কোনো ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ধীরে ধীরে সেতুটির বিভিন্ন অংশের কংক্রিট ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। বর্তমানে সেতুটির ঠিক মাঝখানের মূল অংশটি ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার কাঠামোটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।

​এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ঘটকের আন্দুয়া, কুমারখালী, মানসুরাবাদ, চিংগাছিয়া, পিপড়াখালী, সুন্দ্রা-কালিকাপুর ও কলাগাজিয়া গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা সদর ও স্থানীয় বাজারগুলোতে যাতায়াত করেন।

​সেতুটির এমন বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ​উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়​ কলাগাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ​,উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, ​হাজী আশরাফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝাটবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

​ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া, এলাকায় কোনো জরুরি চিকিৎসা বা অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় গ্রামীণ জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

​যাতায়াত ব্যবস্থার এই অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটি এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম হওয়ায়, বর্তমানে ভ্যান বা রিকশার মতো কোনো পণ্যবাহী যানবাহন সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে কৃষকেরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না।

​এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় এটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির জানান, সেতুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

​অন্যদিকে, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন পেলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে জামায়াত নেতাকে থানায় হস্তান্তর, বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে মুক্তি!

মির্জাগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পারাপার: চরম ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

আপডেট সময়: ০১:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের দুশমির খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেতুটির মাঝখানের ঢালাই ধসে গিয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িকভাবে কাঠের তক্তা বিছিয়ে এর ওপর দিয়ে যাতায়াত করলেও, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের অন্তত ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের পর গত ২১ বছরেও সেতুটিতে কোনো ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ধীরে ধীরে সেতুটির বিভিন্ন অংশের কংক্রিট ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। বর্তমানে সেতুটির ঠিক মাঝখানের মূল অংশটি ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার কাঠামোটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।

​এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ঘটকের আন্দুয়া, কুমারখালী, মানসুরাবাদ, চিংগাছিয়া, পিপড়াখালী, সুন্দ্রা-কালিকাপুর ও কলাগাজিয়া গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা সদর ও স্থানীয় বাজারগুলোতে যাতায়াত করেন।

​সেতুটির এমন বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ​উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়​ কলাগাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ​,উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, ​হাজী আশরাফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝাটবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

​ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া, এলাকায় কোনো জরুরি চিকিৎসা বা অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় গ্রামীণ জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

​যাতায়াত ব্যবস্থার এই অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটি এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম হওয়ায়, বর্তমানে ভ্যান বা রিকশার মতো কোনো পণ্যবাহী যানবাহন সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে কৃষকেরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না।

​এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় এটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

​বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির জানান, সেতুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

​অন্যদিকে, মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন পেলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”