০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপার আমখোলায় গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাকবিতন্ডা থেকে সং/ঘর্ষ; আ/হত-১৪

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পটুয়াখালী ও গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫)। আহত অপর পাঁচ জনের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাদুরা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মৃধার জমির সামনে সরকারি জমিতে ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু ও সোহাগসহ কয়েকজন ঘর নির্মাণে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার বলেন, “বাদুরা বাজারে আমাদের জমি রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এমদাদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আমার ক্রয়কৃত জমিতে জোর করে ঘর তুলতে যায়। আমরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।”

আমখোলা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এমদাদ হোসেন বলেন, “সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণ করতে গেলে বাবুল হাওলাদারের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের ১০ জন কর্মীকে আহত করে।”

এ বিষয়ে খোকন মৃধা বলেন, “আমার মালিকানাধীন জমির সামনে হাটবাজারের সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে। ওই জমির পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি। বাবুল হাওলাদার ওই সরকারি জমি জোর করে দখলে নিতে চান।”

খোকন মৃধার স্ত্রী সাহিদা ইসলাম শান্তনা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার জমি ভোগদখল করতে পারিনি। উল্টো তারা আমার জমি বিক্রি করে দিতে বলে। আমি গণঅধিকার পরিষদ করি। তাই অতিষ্ঠ হয়ে গণঅধিকার পরিষদকে অফিস করতে দিয়েছি। শুক্রবার ইপিজেডের ঠিকাদার খোকনের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে।”

আমখোলা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে না গিয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।”

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

Tag:
জনপ্রিয়

গলাচিপায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিশ্বকর্মা পূজা উৎযাপন

গলাচিপার আমখোলায় গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাকবিতন্ডা থেকে সং/ঘর্ষ; আ/হত-১৪

আপডেট সময়: ০৭:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পটুয়াখালী ও গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫)। আহত অপর পাঁচ জনের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাদুরা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মৃধার জমির সামনে সরকারি জমিতে ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু ও সোহাগসহ কয়েকজন ঘর নির্মাণে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার বলেন, “বাদুরা বাজারে আমাদের জমি রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এমদাদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আমার ক্রয়কৃত জমিতে জোর করে ঘর তুলতে যায়। আমরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।”

আমখোলা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এমদাদ হোসেন বলেন, “সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের অফিস নির্মাণ করতে গেলে বাবুল হাওলাদারের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের ১০ জন কর্মীকে আহত করে।”

এ বিষয়ে খোকন মৃধা বলেন, “আমার মালিকানাধীন জমির সামনে হাটবাজারের সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে। ওই জমির পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি। বাবুল হাওলাদার ওই সরকারি জমি জোর করে দখলে নিতে চান।”

খোকন মৃধার স্ত্রী সাহিদা ইসলাম শান্তনা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার জমি ভোগদখল করতে পারিনি। উল্টো তারা আমার জমি বিক্রি করে দিতে বলে। আমি গণঅধিকার পরিষদ করি। তাই অতিষ্ঠ হয়ে গণঅধিকার পরিষদকে অফিস করতে দিয়েছি। শুক্রবার ইপিজেডের ঠিকাদার খোকনের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে।”

আমখোলা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে না গিয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।”

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”