১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় শর্টসার্কিটের আগুনে মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন ভাইয়ের পরিবার, পুড়ে ছাই তিন বসতঘর, ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি

পটুয়াখালীর দশমিনায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ভয়াবহতায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল হারিয়েছেন তিন পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। এক মুহূর্তের আগুনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর আলীপুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুরা এলাকার সুলিজ বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মৃধা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—ইব্রাহিম মৃধা, নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ইব্রাহিম মৃধার বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে পাশের দুই ভাই নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধার বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনটি ঘরই আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়।

আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। সেখান থেকে একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি বসতঘর ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে ইব্রাহিম মৃধা বলেন, “আমার সম্বল বলতে ছিল এই ঘর, কিছু জমিজমার দলিল আর মামলার কাগজপত্র। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। কীভাবে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আলীপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও সংবাদকর্মীদের জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃধা বাড়ির তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ব্যবহার্য সামগ্রী, নগদ টাকাসহ সবকিছু হারানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাময়িক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে একদিনের ব্যবধানে নয়, মাত্র কয়েক মুহূর্তের আগুনেই তিন ভাইয়ের দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বসতঘর ও জীবনের প্রয়োজনীয় সম্বল হারিয়ে পরিবার তিনটি এখন চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag:
জনপ্রিয়

কলাপাড়ায় বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু, পরিবারে শোক

দশমিনায় শর্টসার্কিটের আগুনে মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন ভাইয়ের পরিবার, পুড়ে ছাই তিন বসতঘর, ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি

আপডেট সময়: ০৪:০০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ভয়াবহতায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল হারিয়েছেন তিন পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। এক মুহূর্তের আগুনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর আলীপুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুরা এলাকার সুলিজ বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মৃধা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—ইব্রাহিম মৃধা, নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ইব্রাহিম মৃধার বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে পাশের দুই ভাই নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধার বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনটি ঘরই আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়।

আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। সেখান থেকে একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি বসতঘর ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে ইব্রাহিম মৃধা বলেন, “আমার সম্বল বলতে ছিল এই ঘর, কিছু জমিজমার দলিল আর মামলার কাগজপত্র। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। কীভাবে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আলীপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও সংবাদকর্মীদের জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃধা বাড়ির তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ব্যবহার্য সামগ্রী, নগদ টাকাসহ সবকিছু হারানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাময়িক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে একদিনের ব্যবধানে নয়, মাত্র কয়েক মুহূর্তের আগুনেই তিন ভাইয়ের দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বসতঘর ও জীবনের প্রয়োজনীয় সম্বল হারিয়ে পরিবার তিনটি এখন চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।