০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লিতে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব, দিনভর ত্রিপিটক পাঠ ও বুদ্ধপূজা, সন্ধ্যায় উড়বে রঙিন ফানুস

পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। আত্মশুদ্ধি, অতীতের ভুল-ত্রুটি সংশোধন এবং অশুভ চিন্তা পরিহার করে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। দিনভর বিশেষ বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ ও পবিত্র ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন শেষে সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও বর্ণিল হয়ে উঠবে।

সোমবার সকালে স্থানীয় বৌদ্ধবিহারগুলোতে বিশেষ বুদ্ধপূজা ও পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ উপলক্ষে বিহারগুলোতে রাখাইন নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। তাঁরা প্রদীপ প্রজ্বালন, ফুল ও প্রদীপ নিবেদন এবং পবিত্র ত্রিপিটক পাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন।

বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, আরাকানিক পঞ্জিকা বা চন্দ্র-সৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও অতীতের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নৈতিক জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপিত হয়। এ সময় ধর্মীয় অনুশীলন, আত্মসমালোচনা ও পারস্পরিক সংশোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধবিহারগুলোতে শুরু হবে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবরদান উৎসব। এ উৎসবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের চীবর বা পরিধেয় বস্ত্র দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন।

ধর্মীয় তাৎপর্য ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জীবন গঠনের পাশাপাশি এ উৎসব শান্তি, মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে।

Tag:
জনপ্রিয়

পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লিতে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব, দিনভর ত্রিপিটক পাঠ ও বুদ্ধপূজা, সন্ধ্যায় উড়বে রঙিন ফানুস

পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লিতে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব, দিনভর ত্রিপিটক পাঠ ও বুদ্ধপূজা, সন্ধ্যায় উড়বে রঙিন ফানুস

আপডেট সময়: ০১:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। আত্মশুদ্ধি, অতীতের ভুল-ত্রুটি সংশোধন এবং অশুভ চিন্তা পরিহার করে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। দিনভর বিশেষ বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ ও পবিত্র ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন শেষে সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও বর্ণিল হয়ে উঠবে।

সোমবার সকালে স্থানীয় বৌদ্ধবিহারগুলোতে বিশেষ বুদ্ধপূজা ও পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ উপলক্ষে বিহারগুলোতে রাখাইন নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। তাঁরা প্রদীপ প্রজ্বালন, ফুল ও প্রদীপ নিবেদন এবং পবিত্র ত্রিপিটক পাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন।

বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, আরাকানিক পঞ্জিকা বা চন্দ্র-সৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও অতীতের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে নৈতিক জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপিত হয়। এ সময় ধর্মীয় অনুশীলন, আত্মসমালোচনা ও পারস্পরিক সংশোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধবিহারগুলোতে শুরু হবে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবরদান উৎসব। এ উৎসবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের চীবর বা পরিধেয় বস্ত্র দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন।

ধর্মীয় তাৎপর্য ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জীবন গঠনের পাশাপাশি এ উৎসব শান্তি, মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে।