পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১১ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। এ সময় অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ও রোববার পরিচালিত অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন—দশমিনা উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামের মো. সাগর রাঢ়ী (২০), মো. ইমরান গাজী (১৯), মো. সোহাগ হোসেন মিয়া (১৯), মো. জহির মীর (১৯), জাফর গাজী (৩৫) ও মানিক (১৮)। এ ছাড়া চরবোরহান ইউনিয়নের কাওসার (১৩), সাগর গাজী (১৪), মিলন সরদার (৪০), ফিরোজ খান (২৫) ও ইমাম মোর্শেদ (১৪)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার অভিযানে সাগর রাঢ়ী, ইমরান গাজী, সোহাগ হোসেন মিয়া ও জহির মীরকে আটক করা হয়। এ সময় ৭০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রোববারের অভিযানে আরও সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় অবৈধ কারেন্ট জাল ও তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন সরদার ও ফিরোজ খানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জাফর গাজী ও মানিকের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ নিয়মিত মামলা করেছে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কাওসার, সাগর গাজী ও ইমাম মোর্শেদকে বয়স বিবেচনায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে জব্দ করা কারেন্ট জাল তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী হাজিরহাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস ও উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: 











