০৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে উপড়ে ফেলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভিযোগ; ক্ষতিগ্রস্থ উপকারভোগীরা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে বেড়িবাঁধ সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে । এতে প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক গাছ মাটির নিচে চাপা পড়বে। এতে রাজস্ব হারাবে সরকার। উপকার ভোগীরাও বঞ্চিত হবে তাদের প্রাপ্য টাকা থেকে। 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে শ্রীমন্ত নদীর পাড়ে। 

উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঠালতলী থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত শ্রীমন্ত নদীর বেরিবাঁধ ৮ কিলোমিটার । ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে চুক্তি করে বন বিভাগ সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের মাধ্যমে এ বেড়িবাঁধে গাছ লাগায়। কিন্তু মাঝখান দিয়ে এক হাজার ১০০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এখানে প্রায় ছয় লক্ষাধীক টাকার গাছ রয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করলে উপকার ভোগী ( জমির মালিক) বিক্রিত টাকার শতকরা ৬৫ ভাগ, রাজস্ব খাতে ১০ ভাগ,পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০ ভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ ভাগ। 

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্ককাভেটর দিয়ে গাছগুলো উপরে ফেলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এতে কিছু গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু মাটির নিচে চাপা পড়ছে। ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে কাজটি চলছে। উপকার ভোগীরা ভয়ে কোন কথা বলতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি গাছ ছাড়াও দুই পাশে ব্যাক্তি মালিকানা অনেক গাছ রয়েছে। এক্সকাভেটর দিয়ে গাছের গোড়া উপরে মাটিতে ফেলা হচ্ছে। এতে গাছগুলো ভেঙে চুরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে লাকড়ির দামে বিক্রি করতে হবে।

সবুজ বেষ্টনি প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, “গাছ রোপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আমি রয়েছি। প্রায় ৩০০ ফিট জায়গার মাটি কাটা হয়েছে। সামনের অংশে আরো বড় বড় গাছ রয়েছে। গাছ না কেটে বেড়িবাঁধ সংস্কার করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।” 

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “গাছগুলো টেন্ডারের জন্য উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেছে। জেলা কমিটির অনুমতি পেলে গাছগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে । কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিযুক্ত ঠিকাদার বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে এস্ককাভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চালাচ্ছে। শতাধিক গাছ উপরে ফেলে ভেঙে নষ্ট করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে সময়ের জন্য অনুরোধ করলে, তারা সময় দিতে রাজি নয় বলে জানান তিনি।” 

ঠিকাদার মোঃ মিজানুর রহমান সোহাগ মৃধা বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে কাজ শুরু করা হয়েছে। তারা বন্ধ রাখতে বললে কাজ বন্ধ রাখা হবে।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেল (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রাকিব বলেন, “ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেরিবাঁধ মেরামত করা প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমী পানি বেড়ে গেলে বেরিবাঁধের পাশে মাটি পাওয়া যায় না। গাছ কেটে নেওয়ার জন্য বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।” 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় পুবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

মির্জাগঞ্জে সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে উপড়ে ফেলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভিযোগ; ক্ষতিগ্রস্থ উপকারভোগীরা

আপডেট সময়: ০৬:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে বেড়িবাঁধ সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে । এতে প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক গাছ মাটির নিচে চাপা পড়বে। এতে রাজস্ব হারাবে সরকার। উপকার ভোগীরাও বঞ্চিত হবে তাদের প্রাপ্য টাকা থেকে। 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে শ্রীমন্ত নদীর পাড়ে। 

উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঠালতলী থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত শ্রীমন্ত নদীর বেরিবাঁধ ৮ কিলোমিটার । ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে চুক্তি করে বন বিভাগ সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের মাধ্যমে এ বেড়িবাঁধে গাছ লাগায়। কিন্তু মাঝখান দিয়ে এক হাজার ১০০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এখানে প্রায় ছয় লক্ষাধীক টাকার গাছ রয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করলে উপকার ভোগী ( জমির মালিক) বিক্রিত টাকার শতকরা ৬৫ ভাগ, রাজস্ব খাতে ১০ ভাগ,পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০ ভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ ভাগ। 

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্ককাভেটর দিয়ে গাছগুলো উপরে ফেলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এতে কিছু গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু মাটির নিচে চাপা পড়ছে। ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে কাজটি চলছে। উপকার ভোগীরা ভয়ে কোন কথা বলতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি গাছ ছাড়াও দুই পাশে ব্যাক্তি মালিকানা অনেক গাছ রয়েছে। এক্সকাভেটর দিয়ে গাছের গোড়া উপরে মাটিতে ফেলা হচ্ছে। এতে গাছগুলো ভেঙে চুরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে লাকড়ির দামে বিক্রি করতে হবে।

সবুজ বেষ্টনি প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, “গাছ রোপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আমি রয়েছি। প্রায় ৩০০ ফিট জায়গার মাটি কাটা হয়েছে। সামনের অংশে আরো বড় বড় গাছ রয়েছে। গাছ না কেটে বেড়িবাঁধ সংস্কার করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।” 

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “গাছগুলো টেন্ডারের জন্য উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেছে। জেলা কমিটির অনুমতি পেলে গাছগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে । কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিযুক্ত ঠিকাদার বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে এস্ককাভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চালাচ্ছে। শতাধিক গাছ উপরে ফেলে ভেঙে নষ্ট করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে সময়ের জন্য অনুরোধ করলে, তারা সময় দিতে রাজি নয় বলে জানান তিনি।” 

ঠিকাদার মোঃ মিজানুর রহমান সোহাগ মৃধা বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে কাজ শুরু করা হয়েছে। তারা বন্ধ রাখতে বললে কাজ বন্ধ রাখা হবে।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেল (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রাকিব বলেন, “ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেরিবাঁধ মেরামত করা প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমী পানি বেড়ে গেলে বেরিবাঁধের পাশে মাটি পাওয়া যায় না। গাছ কেটে নেওয়ার জন্য বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।” 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।”