১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজী সেলিম ও তার ছেলের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৬:০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক্ষেত্রে যদি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে তাহলে হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেবে কমিশনটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের শিডিউলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং শিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয়, তাহলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এরপর দুদকের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি জায়গা বা সম্পত্তি যদি দখল হয়ে থাকে এবং দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সে বিষয়েও অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলাম, গাড়িচালক মিজানুর রহমান, মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, অজ্ঞাতপরিচয়ের তিনজনসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী লেফটেন্যান্ট ওয়াসিব আহমদ খান।

এরপর ওই রাতেই হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ অক্টোবর দুপুরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুরান ঢাকার চকবাজারে চাঁন সরদার দাদা বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে অবৈধ দুটি অস্ত্র, মদ, বিয়ার, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও Very High Frequency (ভিএইএফ) ডিভাইসযুক্ত ওয়াকিটকি বেজ স্টেশন জব্দ করা হয়। এরপর মদ্যপান ও বেআইনিভাবে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে ১৮ মাসের সাজা দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদুল ইসলামকে বেআইনি ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনী কর্মকর্তার করা মামলায় ইরফান ও জাহিদকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর ভোরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপুকে (৪৫) গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগ। এরপর আদালত দিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ইরফানকে গ্রেফতারের পর পুরান ঢাকায় তার চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের বিষয়ে নানা তথ্য উঠতে শুরু করেছে। এসব কারণে ইরফান সেলিমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে ২৭ অক্টোবর রাতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

হাজী সেলিম ও তার ছেলের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক

আপডেট সময়: ০৬:০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক্ষেত্রে যদি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে তাহলে হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেবে কমিশনটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের শিডিউলের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং শিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয়, তাহলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এরপর দুদকের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি জায়গা বা সম্পত্তি যদি দখল হয়ে থাকে এবং দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সে বিষয়েও অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলাম, গাড়িচালক মিজানুর রহমান, মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, অজ্ঞাতপরিচয়ের তিনজনসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী লেফটেন্যান্ট ওয়াসিব আহমদ খান।

এরপর ওই রাতেই হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ অক্টোবর দুপুরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুরান ঢাকার চকবাজারে চাঁন সরদার দাদা বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে অবৈধ দুটি অস্ত্র, মদ, বিয়ার, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও Very High Frequency (ভিএইএফ) ডিভাইসযুক্ত ওয়াকিটকি বেজ স্টেশন জব্দ করা হয়। এরপর মদ্যপান ও বেআইনিভাবে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে ১৮ মাসের সাজা দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদুল ইসলামকে বেআইনি ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনী কর্মকর্তার করা মামলায় ইরফান ও জাহিদকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর ভোরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপুকে (৪৫) গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগ। এরপর আদালত দিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ইরফানকে গ্রেফতারের পর পুরান ঢাকায় তার চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের বিষয়ে নানা তথ্য উঠতে শুরু করেছে। এসব কারণে ইরফান সেলিমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে ২৭ অক্টোবর রাতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।