১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামা পূজাসহ টানা তিন দিনের সরকারি ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, শতভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং

সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্যামা পূজার সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সৈকত জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে আসা দর্শনার্থীরা মেতে উঠেছেন আনন্দ-উল্লাসে।

সৈকতে কেউ ছোট-বড় ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন, কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে উপভোগ করছেন স্নিগ্ধ মুহূর্ত। আবার কেউ বালুচরে খেলাধুলা, ছবি তোলা কিংবা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো সৈকত।

শুধু জিরো পয়েন্ট নয়, কুয়াকাটার প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের লেম্বুরবন, চর গঙ্গামতিসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অনেকে এসব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।

এদিকে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পর্যটকদের চাপে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের আগমনে রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, পর্যটনসংশ্লিষ্ট পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বেড়েছে বেচাকেনা। দীর্ঘদিনের তুলনায় বাড়তি পর্যটকের উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরকারি টানা তিন দিনের ছুটিকে ঘিরে কুয়াকাটায় তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলা। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

Tag:
জনপ্রিয়

মির্জাগঞ্জে স্কুলছাত্রী যুথি হ/ত্যা: বাবার দায়ের করা মামলায় প্রেমিকসহ তিনজন আটক, জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ

শ্যামা পূজাসহ টানা তিন দিনের সরকারি ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, শতভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং

আপডেট সময়: ০২:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্যামা পূজার সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সৈকত জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সৈকতের জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে আসা দর্শনার্থীরা মেতে উঠেছেন আনন্দ-উল্লাসে।

সৈকতে কেউ ছোট-বড় ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন, কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে উপভোগ করছেন স্নিগ্ধ মুহূর্ত। আবার কেউ বালুচরে খেলাধুলা, ছবি তোলা কিংবা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো সৈকত।

শুধু জিরো পয়েন্ট নয়, কুয়াকাটার প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের লেম্বুরবন, চর গঙ্গামতিসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অনেকে এসব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।

এদিকে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ব্যস্ততা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পর্যটকদের চাপে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের আগমনে রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, পর্যটনসংশ্লিষ্ট পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বেড়েছে বেচাকেনা। দীর্ঘদিনের তুলনায় বাড়তি পর্যটকের উপস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরকারি টানা তিন দিনের ছুটিকে ঘিরে কুয়াকাটায় তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলা। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।