০৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীন করেছেন দেশ, এবার নিজ ঘরের জন্য লড়াই! পটুয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার আমরণ অনশন ভাঙালেন ইউএনও

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ০৯:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

যে মানুষটি ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকেই নিজের বসতভিটায় টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। ভূমিহীন হিসেবে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তিন শতাংশ জমিতে বসবাস করেও উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ‘বীর নিবাস’-এর নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে মাঝপথে। এর মধ্যে পরিবারের ওপর হামলা ও বসবাসের অস্থায়ী ঘর ভাঙচুরের অভিযোগে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও নিরাপত্তা ও স্থায়ী আশ্রয়ের নিশ্চয়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৮০ বছর বয়সে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে আমরণ অনশনে বসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে তাঁর অনশন ভাঙানো হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। এ সময় নিজের বসতভিটা রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং অসমাপ্ত বীর নিবাসের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার (৮০)। তাঁর পিতার নাম হোসেন আলী হাওলাদার। মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-৬০৩০১০১৫৬। তাঁর দাবি, তিনি মেজর জলিলের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। জন্মস্থান বরিশাল হলেও পটুয়াখালীতে বেড়ে ওঠা এবং এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় তিনি পটুয়াখালী জেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

জানা যায়, ২০০৯ সালে পাঁচ শতাংশ জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন আজহার আলী হাওলাদার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিহীন হিসেবে পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় তাঁকে তিন শতাংশ সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০২৪ সালে একই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বীর নিবাস বরাদ্দ পান।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৫ সালে বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে শুরু হওয়া এই আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত পড়ে থাকলেও কাজ বন্ধের কারণ কিংবা পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা। আজহার আলী হাওলাদারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁদের সরকারি বরাদ্দের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বসবাসের অস্থায়ী ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। একদিকে অসমাপ্ত সরকারি বীর নিবাস, অন্যদিকে বসবাসের অস্থায়ী আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

একজন ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ এবং পরবর্তী সময়ে বীর নিবাস অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে তাঁর আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জমিতে বসবাসের অধিকার নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, কেন বীর নিবাসের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং হামলা ও ঘর ভাঙচুরের অভিযোগের পরও কেন পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

আজহার আলী হাওলাদার জানান, পরিবারের ওপর হামলা, অস্থায়ী ঘর ভাঙচুর এবং উচ্ছেদের চেষ্টার বিষয়ে তিনি একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস এবং বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কোনো কার্যকর নিশ্চয়তা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেন।

অনশনরত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মেজর জলিলের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। জন্মস্থান বরিশাল হলেও পটুয়াখালীতেই বড় হয়েছি, এখান থেকেই যুদ্ধ করেছি। আমি পটুয়াখালী জেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে এসে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আমাকে বীর নিবাসের একটি ঘর বরাদ্দ দিয়েছিল। ভূমিহীন হওয়ায় সরকার আমাদের সরকারি জায়গায় ঘর দিয়েছে। কিন্তু ঘরটির কাজ অর্ধেক হওয়ার আগেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে, তা আমার জানা নেই। অন্যদিকে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা আমাকে সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে অস্থায়ী ঘরটিও ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে আমি খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জীবনের শেষ বয়সে এসে পরিবার নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই। সরকারের দেওয়া জমি ও ঘরটুকুর নিশ্চয়তা চাই। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার গিয়েও সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যবস্থা করেন।”

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী হাওলাদারের আমরণ অনশন ভাঙানো হয়। তবে তাঁর বসতভিটার নিরাপত্তা, পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত এবং অসমাপ্ত বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো কার্যকর সমাধানের দাবি রয়েছে।

একজন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধার এই মানবিক সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি বরাদ্দের জমির কাগজপত্র যাচাই করে তাঁর বসব

Tag:
জনপ্রিয়

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন

স্বাধীন করেছেন দেশ, এবার নিজ ঘরের জন্য লড়াই! পটুয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার আমরণ অনশন ভাঙালেন ইউএনও

আপডেট সময়: ০৯:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

যে মানুষটি ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকেই নিজের বসতভিটায় টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। ভূমিহীন হিসেবে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তিন শতাংশ জমিতে বসবাস করেও উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ‘বীর নিবাস’-এর নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে মাঝপথে। এর মধ্যে পরিবারের ওপর হামলা ও বসবাসের অস্থায়ী ঘর ভাঙচুরের অভিযোগে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও নিরাপত্তা ও স্থায়ী আশ্রয়ের নিশ্চয়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৮০ বছর বয়সে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে আমরণ অনশনে বসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে তাঁর অনশন ভাঙানো হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। এ সময় নিজের বসতভিটা রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং অসমাপ্ত বীর নিবাসের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার (৮০)। তাঁর পিতার নাম হোসেন আলী হাওলাদার। মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-৬০৩০১০১৫৬। তাঁর দাবি, তিনি মেজর জলিলের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। জন্মস্থান বরিশাল হলেও পটুয়াখালীতে বেড়ে ওঠা এবং এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় তিনি পটুয়াখালী জেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।

জানা যায়, ২০০৯ সালে পাঁচ শতাংশ জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন আজহার আলী হাওলাদার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিহীন হিসেবে পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় তাঁকে তিন শতাংশ সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০২৪ সালে একই জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বীর নিবাস বরাদ্দ পান।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২৫ সালে বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে শুরু হওয়া এই আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত পড়ে থাকলেও কাজ বন্ধের কারণ কিংবা পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা। আজহার আলী হাওলাদারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁদের সরকারি বরাদ্দের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বসবাসের অস্থায়ী ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। একদিকে অসমাপ্ত সরকারি বীর নিবাস, অন্যদিকে বসবাসের অস্থায়ী আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

একজন ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ এবং পরবর্তী সময়ে বীর নিবাস অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে তাঁর আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জমিতে বসবাসের অধিকার নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, কেন বীর নিবাসের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং হামলা ও ঘর ভাঙচুরের অভিযোগের পরও কেন পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

আজহার আলী হাওলাদার জানান, পরিবারের ওপর হামলা, অস্থায়ী ঘর ভাঙচুর এবং উচ্ছেদের চেষ্টার বিষয়ে তিনি একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস এবং বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কোনো কার্যকর নিশ্চয়তা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেন।

অনশনরত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজহার আলী হাওলাদার বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মেজর জলিলের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। জন্মস্থান বরিশাল হলেও পটুয়াখালীতেই বড় হয়েছি, এখান থেকেই যুদ্ধ করেছি। আমি পটুয়াখালী জেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে এসে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আমাকে বীর নিবাসের একটি ঘর বরাদ্দ দিয়েছিল। ভূমিহীন হওয়ায় সরকার আমাদের সরকারি জায়গায় ঘর দিয়েছে। কিন্তু ঘরটির কাজ অর্ধেক হওয়ার আগেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে, তা আমার জানা নেই। অন্যদিকে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা আমাকে সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে অস্থায়ী ঘরটিও ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে আমি খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জীবনের শেষ বয়সে এসে পরিবার নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই। সরকারের দেওয়া জমি ও ঘরটুকুর নিশ্চয়তা চাই। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার গিয়েও সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যবস্থা করেন।”

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী হাওলাদারের আমরণ অনশন ভাঙানো হয়। তবে তাঁর বসতভিটার নিরাপত্তা, পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত এবং অসমাপ্ত বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো কার্যকর সমাধানের দাবি রয়েছে।

একজন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধার এই মানবিক সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি বরাদ্দের জমির কাগজপত্র যাচাই করে তাঁর বসব