১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, এগোচ্ছে অন্ধ্র উপকূলের দিকে, দেশের বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে থাকায় বাংলাদেশে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান, শক্তি ও সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সাগরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশে সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে। ফলে বাংলাদেশে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল ও পরশু মূলত উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশের পর দেশের আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরশু ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দরগুলোর সতর্ক সংকেত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Tag:
জনপ্রিয়

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, এগোচ্ছে অন্ধ্র উপকূলের দিকে, দেশের বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, এগোচ্ছে অন্ধ্র উপকূলের দিকে, দেশের বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আপডেট সময়: ১১:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে থাকায় বাংলাদেশে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান, শক্তি ও সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সাগরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশে সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে। ফলে বাংলাদেশে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল ও পরশু মূলত উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশের পর দেশের আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরশু ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দরগুলোর সতর্ক সংকেত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।