০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসা আর পরিশ্রমে গড়া এক উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামিল পাস এক তরুণী। পারিবারিক ব্যস্ততা ও শত বাধা পেরিয়ে তিনি এখন সফল ফাস্টফুড ব্যবসায়ী।

​উপজেলার সুবিদখালী এলাকার কলেজ কর্নার ফাস্টফুডের কর্ণধার রাব্বি মল্লিক জানান, এই ব্যবসার সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের। মাদ্রাসার কামিল বা মাস্টার্স সমমান পাস করার পর বসে না থেকে শারমিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন এই ফাস্টফুড ও কেক তৈরির প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এলাকায় মানসম্মত ও তাজা খাবারের জন্য দোকানটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

​উদ্যোক্তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই কন্যাসন্তান ও সংসারের সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শারমিন প্রতিদিন নিজ হাতে ৩০টিরও বেশি ধরনের ফাস্টফুড এবং কাস্টমাইজড জন্মদিনের কেক তৈরি করেন। একই সঙ্গে পুরো রান্নাঘরের কর্মযজ্ঞও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদারকি করেন।

​দোকানের সামনের কার্যক্রম ও গ্রাহক সামলানোর জন্য একজন নারী ম্যানেজার রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাব্বি মল্লিক বলেন, “আমার স্ত্রী রান্না ও কেক তৈরির কাজে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তাই সামনের সেবা ও অর্ডার ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আমরা একজন নারী কর্মী নিয়োগ দিয়েছি।

​সাফল্যের এই যাত্রায় পরিবারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছোট সন্তানদের দেখাশোনা থেকে শুরু করে সব কাজে মা ও শাশুড়ির কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পাওয়া গেছে। সবার সম্মিলিত সমর্থন না থাকলে এ পথচলা কঠিন হতো।

​খাবারের গুণগত মানের বিষয়ে আপস না করার কথা জানিয়ে উদ্যোক্তারা বলেন, পরিবারে নিজেরা যা আস্থার সঙ্গে খান, গ্রাহকদের ঠিক সেই মানসম্মত ও তাজা খাবারই পরিবেশন করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে প্রতিটি আইটেম তৈরি করা হয়। ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা জয় করা। কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করে গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

​শারমিনের স্বামী রাব্বি মল্লিক তার স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং পরিবারের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে এবং মানুষের সেবা করে যেতে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন এই উদ্যোক্তা দম্পতি।

Tag:

ভালোবাসা আর পরিশ্রমে গড়া এক উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

ভালোবাসা আর পরিশ্রমে গড়া এক উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

আপডেট সময়: ১২:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামিল পাস এক তরুণী। পারিবারিক ব্যস্ততা ও শত বাধা পেরিয়ে তিনি এখন সফল ফাস্টফুড ব্যবসায়ী।

​উপজেলার সুবিদখালী এলাকার কলেজ কর্নার ফাস্টফুডের কর্ণধার রাব্বি মল্লিক জানান, এই ব্যবসার সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের। মাদ্রাসার কামিল বা মাস্টার্স সমমান পাস করার পর বসে না থেকে শারমিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন এই ফাস্টফুড ও কেক তৈরির প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এলাকায় মানসম্মত ও তাজা খাবারের জন্য দোকানটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

​উদ্যোক্তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই কন্যাসন্তান ও সংসারের সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শারমিন প্রতিদিন নিজ হাতে ৩০টিরও বেশি ধরনের ফাস্টফুড এবং কাস্টমাইজড জন্মদিনের কেক তৈরি করেন। একই সঙ্গে পুরো রান্নাঘরের কর্মযজ্ঞও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদারকি করেন।

​দোকানের সামনের কার্যক্রম ও গ্রাহক সামলানোর জন্য একজন নারী ম্যানেজার রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাব্বি মল্লিক বলেন, “আমার স্ত্রী রান্না ও কেক তৈরির কাজে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তাই সামনের সেবা ও অর্ডার ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আমরা একজন নারী কর্মী নিয়োগ দিয়েছি।

​সাফল্যের এই যাত্রায় পরিবারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছোট সন্তানদের দেখাশোনা থেকে শুরু করে সব কাজে মা ও শাশুড়ির কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পাওয়া গেছে। সবার সম্মিলিত সমর্থন না থাকলে এ পথচলা কঠিন হতো।

​খাবারের গুণগত মানের বিষয়ে আপস না করার কথা জানিয়ে উদ্যোক্তারা বলেন, পরিবারে নিজেরা যা আস্থার সঙ্গে খান, গ্রাহকদের ঠিক সেই মানসম্মত ও তাজা খাবারই পরিবেশন করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে প্রতিটি আইটেম তৈরি করা হয়। ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা জয় করা। কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করে গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

​শারমিনের স্বামী রাব্বি মল্লিক তার স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং পরিবারের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে এবং মানুষের সেবা করে যেতে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন এই উদ্যোক্তা দম্পতি।