১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়ে ফেরত পাওয়া সেই ‘কালো মানিক’ এর দাম ২২ লাখ টাকা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বিশালদেহী এক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘কালো মানিক’। প্রায় ৪৫ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির মালিক সোহাগ মৃধা এবার এর দাম হেঁকেছেন ২২ লক্ষ টাকা। তবে এই ষাঁড়টিকে ঘিরে রয়েছে এক আবেগঘন রাজনৈতিক স্মৃতি। গত বছর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন সোহাগ, যা গ্রহণ করার পর নেত্রী পুনরায় তার পরিবারকেই ফেরত দেন।

পটুয়াখালীর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী ও কৃষক সোহাগ মৃধা তার প্রিয় এই ষাঁড়টিকে গড়ে তুলেছেন নিবিড় মমতায়। সোহাগ জানান, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দল ঘুরে দাঁড়ালে নেত্রীকে তার প্রিয় পশুটি উপহার দেবেন। সেই প্রতিজ্ঞা থেকে গত বছরের ৫ জুন গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ষাঁড়টি নিয়ে যান তিনি। বেগম খালেদা জিয়া উপহারটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং পরে সোহাগের ছেলে জিসান মৃধার জিম্মায় এটি ফেরত দেন। ওই সময় বিএনপির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কলে সোহাগের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ঈদ উপহারও প্রদান করেন।

বিশালাকার কালো মানিক প্রায় ৭ বছর আগে চৈতা বাজার থেকে কেনা একটি ফ্রিজিয়ান গাভির বাছুর হিসেবে জন্ম নেয়। বর্তমানে এর বৈশিষ্ট্যগুলো রীতিমতো বিস্ময়কর। ওজন প্রায় ৪৫ মণ (১ হাজার ৮০০ কেজি)। দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। পালনে ব্যয় দৈনিক খাবার খরচ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

সোহাগের স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি জানান, “কালো মানিক এখন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। তাকে পালতে অনেক কষ্ট ও ব্যয় হলেও আমরা ভালোবেসে তা করি।”

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাতুর সোহাগ মৃধা এবার কালো মানিককে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, “ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে মরহুমা নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবো।”

বিশালদেহী এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন সোহাগের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ দলের অত্যন্ত একনিষ্ঠ কর্মী। বরিশাল বিভাগে এত বড় এবং ওজনের ষাঁড় আর দ্বিতীয়টি আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা আশা করি তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন।”

তবে বর্তমান বাজারে এত বিশাল দামের ষাঁড় বিক্রি করা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সোহাগ ও তার পরিবার। উপযুক্ত ক্রেতা পেলে তারা দ্রুতই কালো মানিককে হস্তান্তর করতে চান।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য বাউফলের বিএনপি নেতা আজাহার খান ও যুবলীগ নেতা সহ আটক-৩

খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়ে ফেরত পাওয়া সেই ‘কালো মানিক’ এর দাম ২২ লাখ টাকা

আপডেট সময়: ০৮:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বিশালদেহী এক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘কালো মানিক’। প্রায় ৪৫ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির মালিক সোহাগ মৃধা এবার এর দাম হেঁকেছেন ২২ লক্ষ টাকা। তবে এই ষাঁড়টিকে ঘিরে রয়েছে এক আবেগঘন রাজনৈতিক স্মৃতি। গত বছর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন সোহাগ, যা গ্রহণ করার পর নেত্রী পুনরায় তার পরিবারকেই ফেরত দেন।

পটুয়াখালীর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী ও কৃষক সোহাগ মৃধা তার প্রিয় এই ষাঁড়টিকে গড়ে তুলেছেন নিবিড় মমতায়। সোহাগ জানান, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দল ঘুরে দাঁড়ালে নেত্রীকে তার প্রিয় পশুটি উপহার দেবেন। সেই প্রতিজ্ঞা থেকে গত বছরের ৫ জুন গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ষাঁড়টি নিয়ে যান তিনি। বেগম খালেদা জিয়া উপহারটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং পরে সোহাগের ছেলে জিসান মৃধার জিম্মায় এটি ফেরত দেন। ওই সময় বিএনপির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কলে সোহাগের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ঈদ উপহারও প্রদান করেন।

বিশালাকার কালো মানিক প্রায় ৭ বছর আগে চৈতা বাজার থেকে কেনা একটি ফ্রিজিয়ান গাভির বাছুর হিসেবে জন্ম নেয়। বর্তমানে এর বৈশিষ্ট্যগুলো রীতিমতো বিস্ময়কর। ওজন প্রায় ৪৫ মণ (১ হাজার ৮০০ কেজি)। দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। পালনে ব্যয় দৈনিক খাবার খরচ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

সোহাগের স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি জানান, “কালো মানিক এখন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। তাকে পালতে অনেক কষ্ট ও ব্যয় হলেও আমরা ভালোবেসে তা করি।”

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাতুর সোহাগ মৃধা এবার কালো মানিককে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, “ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে মরহুমা নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবো।”

বিশালদেহী এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন সোহাগের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ দলের অত্যন্ত একনিষ্ঠ কর্মী। বরিশাল বিভাগে এত বড় এবং ওজনের ষাঁড় আর দ্বিতীয়টি আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা আশা করি তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন।”

তবে বর্তমান বাজারে এত বিশাল দামের ষাঁড় বিক্রি করা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সোহাগ ও তার পরিবার। উপযুক্ত ক্রেতা পেলে তারা দ্রুতই কালো মানিককে হস্তান্তর করতে চান।