০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ; সুপার ও সচিব সহ সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি

২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম থেকে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলই এবার পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনায় নতুন করে কমিটি গঠন, দায়িত্ব পালন ও তথ্য গোপন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সব কেন্দ্রে নির্ধারিত ১ নম্বর সেট ‘কর্ণাক’-এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর সেট ‘লুক্সর’-এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। হল সুপার ছিলেন বাবুল আখতার। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন সাঈদুল হক আজাদ, শাহ আলম ও রুবেল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, হল সুপার বাবুল আখতার পরীক্ষার মধ্যেই ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হল সুপারের ছুটি নিতে হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি প্রয়োজন হয়। বিশেষ জরুরি কারণ ছাড়া পরীক্ষাকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছুটি দেওয়ার বিধান নেই বলেও জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য রুবেল হোসেনের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া একজন নবাগত শিক্ষককে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পুরো কমিটি গঠনের কোনো লিখিত আদেশ বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বোর্ডের মৌখিক নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, খাতা না দেখেই নম্বর প্রদান এবং পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে কেন্দ্রটি বাতিল করা হয় এবং পরবর্তী পাঁচ বছর পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলসহ ছয়জন শিক্ষককে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বোর্ডের রেজুলেশনে ইব্রাহিম খলিলকে ওই কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

দুই দশক পর আবারও একই বিদ্যালয় কেন্দ্রে বড় ধরনের পরীক্ষাজনিত ত্রুটি সামনে আসায় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জিএম শহিদুল ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। তবে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং কেন্দ্রের সুপার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, “কেন্দ্র সুপার, সচিব, ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যবস্থা নিতে পত্র পাঠানো হয়েছে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

পটুয়াখালীতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ; সুপার ও সচিব সহ সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি

আপডেট সময়: ১০:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম থেকে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলই এবার পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনায় নতুন করে কমিটি গঠন, দায়িত্ব পালন ও তথ্য গোপন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সব কেন্দ্রে নির্ধারিত ১ নম্বর সেট ‘কর্ণাক’-এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর সেট ‘লুক্সর’-এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। হল সুপার ছিলেন বাবুল আখতার। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন সাঈদুল হক আজাদ, শাহ আলম ও রুবেল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, হল সুপার বাবুল আখতার পরীক্ষার মধ্যেই ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হল সুপারের ছুটি নিতে হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি প্রয়োজন হয়। বিশেষ জরুরি কারণ ছাড়া পরীক্ষাকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ছুটি দেওয়ার বিধান নেই বলেও জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য রুবেল হোসেনের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া একজন নবাগত শিক্ষককে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পুরো কমিটি গঠনের কোনো লিখিত আদেশ বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বোর্ডের মৌখিক নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, খাতা না দেখেই নম্বর প্রদান এবং পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে কেন্দ্রটি বাতিল করা হয় এবং পরবর্তী পাঁচ বছর পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলসহ ছয়জন শিক্ষককে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বোর্ডের রেজুলেশনে ইব্রাহিম খলিলকে ওই কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

দুই দশক পর আবারও একই বিদ্যালয় কেন্দ্রে বড় ধরনের পরীক্ষাজনিত ত্রুটি সামনে আসায় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জিএম শহিদুল ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। তবে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং কেন্দ্রের সুপার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, “কেন্দ্র সুপার, সচিব, ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যবস্থা নিতে পত্র পাঠানো হয়েছে।”