০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় কুয়াকাটায় পিরোজপুরের এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বন্ধ

সমুদ্রের তীরে পাঁচতারকা হোটেল, আধুনিক কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ—প্রচারে দাবি, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র। মাত্র চার লাখ টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ, বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে অবস্থান এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। এমন আকর্ষণীয় সব সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রচার চালানো হচ্ছিল পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের।

তবে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রচারে শেয়ার কিনে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে অবস্থান এবং বার্ষিক মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রচার করা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি জানান, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও এবং নাথোও নামের অপর এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বড় পরিসরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রচার চালানো ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রস্তাবিত রেললাইনের পরিকল্পনা এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে।

Tag:
জনপ্রিয়

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম নবীর হঠাৎ অসুস্থতায় খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ, দ্রুত সুস্থতা কামনা

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় কুয়াকাটায় পিরোজপুরের এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বন্ধ

আপডেট সময়: ০৫:২৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের তীরে পাঁচতারকা হোটেল, আধুনিক কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ—প্রচারে দাবি, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র। মাত্র চার লাখ টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ, বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে অবস্থান এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। এমন আকর্ষণীয় সব সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রচার চালানো হচ্ছিল পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের।

তবে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রচারে শেয়ার কিনে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে অবস্থান এবং বার্ষিক মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রচার করা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি জানান, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও এবং নাথোও নামের অপর এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বড় পরিসরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রচার চালানো ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রস্তাবিত রেললাইনের পরিকল্পনা এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে।