খুলনার ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা এলাকার ভদ্র পুকুর গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে সড়কটির বেহাল দশায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্কদের। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া, বাজারে কেনাকাটা, কর্মস্থলে যাতায়াত কিংবা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভদ্র পুকুর গ্রামের এই সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটির আশপাশে রয়েছে আইন জুটসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যালয়, গ্রামীণ বাজার ও মসজিদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে এ সড়ক ব্যবহার করেন এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।
এ ছাড়া স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি ব্যবহার করে খুলনা থেকে নড়াইল জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন পথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। অথচ দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা, শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছানো এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের মতো দৈনন্দিন কাজে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের মতে, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও সময় ও ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভদ্র পুকুর গ্রামের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা ভদ্র পুকুর গ্রামের এই সড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা একটাই—আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে দূর হোক জনদুর্ভোগ। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রায় ১৯ বছর ধরে সংস্কারবঞ্চিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কবে পাবে সংস্কারের ছোঁয়া?
আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা: 












