দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নদীপথে যাতায়াত সহজ করতে পটুয়াখালীর খরস্রোতা পায়রা নদীতে চালু করা হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতাধীন নতুন ইঞ্জিনচালিত ট্রলার সার্ভিস। পায়রাকুঞ্জ ঘাট থেকে নদী পার হয়ে মির্জাগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সুবিধার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সার্ভিস চালুর ফলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের পারাপার-সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিআইডব্লিউটিএর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রলার ঘাটের উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে পায়রা নদী পারাপার হতে হয় দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ও নিয়মিত নৌযান না থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নদী পারাপার ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগের। নতুন ট্রলার সার্ভিস চালুর ফলে যাতায়াতের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালী নদীবন্দর কর্মকর্তা জানান, পায়রাকুঞ্জ ট্রলার ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত এ সার্ভিস পরিচালিত হবে। বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এ রুটে চারটি সনদপ্রাপ্ত ও রুট পারমিটধারী বোট চলাচল করবে। পায়রাকুঞ্জ প্রান্তে মোহাম্মদ রাহাত এবং মির্জাগঞ্জ প্রান্তে শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ট্রলার চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরপর ট্রলার ছাড়বে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় এ সেবা পরিচালিত হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট, বয়া, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইজারাদার মোহাম্মদ রাহাত বলেন, “এটি কোনো দলীয় উদ্যোগ নয়; এলাকার সাধারণ মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই বিআইডব্লিউটিএর আওতায় সরকারি নিয়ম মেনে ঘাটের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নতুন এ সার্ভিসকে স্বাগত জানিয়ে ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী শাহ আলম বলেন, “সরকারি নিয়মনীতি মেনে সেবাটি পরিচালিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নদী পারাপার হতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, নতুন এই ট্রলার সার্ভিস দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সেবার সুফল ধরে রাখতে নিয়মিত ট্রলার চলাচল, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রী নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পায়রাকুঞ্জ-মির্জাগঞ্জ নৌপথের এই নতুন সার্ভিস স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে।
জালাল আহমেদ: 











