০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর ওপর নৃশংস নি/র্যাত/ন, হাত-পায়ের রগ কে/টে হ/ত্যাচে/ষ্টার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নৃশংস নির্যাতন, হাত-পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মোঃ শাকিল ফকিরকে (৩০) রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮ ও এসআরবি-২-এর যৌথ আভিযানিক দল।

বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় এসআরবি-৮-এর সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং এসআরবি-২-এর সিপিসি-২, বসিলা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার শাকিল ফকির পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানাধীন মুরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রফিক ফকিরের ছেলে। পটুয়াখালী সদর থানায় দায়ের করা যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনি এজাহারনামীয় প্রধান আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে শাকিল ফকিরের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল ঢাকায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি ব্যবসা করার কথা বলে তিনি অন্যান্য আসামির প্ররোচনায় স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন শাকিল ফকিরসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাবার বাড়িতে যান এবং তার কাছে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা যৌতুক চান। কিন্তু ওই নারী যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শয়নকক্ষে থাকা বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার পায়ের রগ কেটে যায় এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত শাকিল ফকির পলাতক ছিলেন।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-২-এর যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শাকিল ফকিরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার সাথী আক্তার।

Tag:
জনপ্রিয়

পায়রা নদী পারাপারে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান! পায়রাকুঞ্জ-মির্জাগঞ্জ রুটে চালু হলো নতুন ট্রলার সার্ভিস

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর ওপর নৃশংস নি/র্যাত/ন, হাত-পায়ের রগ কে/টে হ/ত্যাচে/ষ্টার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময়: ০৫:০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নৃশংস নির্যাতন, হাত-পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মোঃ শাকিল ফকিরকে (৩০) রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮ ও এসআরবি-২-এর যৌথ আভিযানিক দল।

বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় এসআরবি-৮-এর সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং এসআরবি-২-এর সিপিসি-২, বসিলা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার শাকিল ফকির পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানাধীন মুরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রফিক ফকিরের ছেলে। পটুয়াখালী সদর থানায় দায়ের করা যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনি এজাহারনামীয় প্রধান আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে শাকিল ফকিরের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল ঢাকায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি ব্যবসা করার কথা বলে তিনি অন্যান্য আসামির প্ররোচনায় স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন শাকিল ফকিরসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাবার বাড়িতে যান এবং তার কাছে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা যৌতুক চান। কিন্তু ওই নারী যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শয়নকক্ষে থাকা বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার পায়ের রগ কেটে যায় এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত শাকিল ফকির পলাতক ছিলেন।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-২-এর যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শাকিল ফকিরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার সাথী আক্তার।