০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরতে শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর দিনভর অনশন, মায়ের অভিযোগে পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে শ্বশুর বাড়িতে দিনভর অনশন করেছেন মুক্তা রানী নামে এক গৃহবধূ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার রংগোপালদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওপেন মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সঞ্জয়ের সঙ্গে মুক্তা রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় চার বছর তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। সঞ্জয় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কখনো ঢাকায় ভাড়া বাসায়, আবার কখনো গ্রামের বাড়িতে তাঁদের সংসার জীবন কেটেছে। তবে দাম্পত্য জীবনের প্রায় দুই বছর পর তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরে সঞ্জয় আর সংসার করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অনশনকারী মুক্তা রানী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংসার করতে চাইছেন না। বিয়ের সময় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুক্তা রানী আরও বলেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করলেও তিনি স্ত্রী হিসেবে তাঁর সংসারেই থাকতে চান। নিজের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে শাখা-সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর ঘরে সংসার করতে চান। এমনকি নিজের ভরণপোষণের ব্যয় নিজেই বহন করতে রাজি আছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, মুঠোফোনে সঞ্জয় বলেন, মুক্তা রানীর সঙ্গে তাঁর পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব নয়। তাঁর স্ত্রীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে আলাদা হয়ে যেতে চান বলে জানান সঞ্জয়।

সঞ্জয়ের বড় ভাই উজ্জ্বল বলেন, তাঁর ভাই মুক্তা রানীর সঙ্গে আর সংসার করতে চান না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও উভয় পক্ষের বসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর ভাই গার্মেন্টসে চাকরি করায় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসতে পারেননি।

সঞ্জয়ের বাবা ওপেন মাস্টার বলেন, তাঁর ছেলে যদি মুক্তা রানীকে নিয়ে সংসার করতে রাজি হন, তাহলে তাঁকে বাড়িতে তুলে নিতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। তাঁকে সাদরে গ্রহণ করতেও তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও দুই পক্ষের বসার কথা ছিল।”

এদিকে, মুক্তা রানীর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

Tag:
জনপ্রিয়

দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরতে শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর দিনভর অনশন, মায়ের অভিযোগে পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার

দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরতে শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর দিনভর অনশন, মায়ের অভিযোগে পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার

আপডেট সময়: ০৪:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে শ্বশুর বাড়িতে দিনভর অনশন করেছেন মুক্তা রানী নামে এক গৃহবধূ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার রংগোপালদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওপেন মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সঞ্জয়ের সঙ্গে মুক্তা রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় চার বছর তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। সঞ্জয় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কখনো ঢাকায় ভাড়া বাসায়, আবার কখনো গ্রামের বাড়িতে তাঁদের সংসার জীবন কেটেছে। তবে দাম্পত্য জীবনের প্রায় দুই বছর পর তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরে সঞ্জয় আর সংসার করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অনশনকারী মুক্তা রানী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংসার করতে চাইছেন না। বিয়ের সময় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুক্তা রানী আরও বলেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করলেও তিনি স্ত্রী হিসেবে তাঁর সংসারেই থাকতে চান। নিজের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে শাখা-সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর ঘরে সংসার করতে চান। এমনকি নিজের ভরণপোষণের ব্যয় নিজেই বহন করতে রাজি আছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, মুঠোফোনে সঞ্জয় বলেন, মুক্তা রানীর সঙ্গে তাঁর পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব নয়। তাঁর স্ত্রীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে আলাদা হয়ে যেতে চান বলে জানান সঞ্জয়।

সঞ্জয়ের বড় ভাই উজ্জ্বল বলেন, তাঁর ভাই মুক্তা রানীর সঙ্গে আর সংসার করতে চান না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও উভয় পক্ষের বসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর ভাই গার্মেন্টসে চাকরি করায় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসতে পারেননি।

সঞ্জয়ের বাবা ওপেন মাস্টার বলেন, তাঁর ছেলে যদি মুক্তা রানীকে নিয়ে সংসার করতে রাজি হন, তাহলে তাঁকে বাড়িতে তুলে নিতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। তাঁকে সাদরে গ্রহণ করতেও তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও দুই পক্ষের বসার কথা ছিল।”

এদিকে, মুক্তা রানীর মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।