০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৮.৫১ শতাংশ; তিন কলেজে পাস করেনি কেউ, বোর্ডে পঞ্চম

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পটুয়াখালী জেলায় হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলায় এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে পটুয়াখালীর অবস্থান পঞ্চম। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেলার তিনটি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একযোগে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে পটুয়াখালী জেলার এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে পটুয়াখালীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ও ভোলা। পিরোজপুরে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বরিশালে ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বরগুনায় ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ভোলায় ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে পটুয়াখালীতে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি, যেখানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৩৫০টি কলেজের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলার তিনটি কলেজ রয়েছে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিষয়টি জেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলও এবার আশাব্যঞ্জক নয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭০ জন। বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন।

গত বছর ২০২৫ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৭২৪ জন।

পটুয়াখালীর এবারের ফলাফল জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তিনটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ নয়, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত পাঠদান ও জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Tag:

গলাচিপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হলো কুপনভিত্তিক মিড-ডে মিল ক্যান্টিন, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাবে শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালীতে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৮.৫১ শতাংশ; তিন কলেজে পাস করেনি কেউ, বোর্ডে পঞ্চম

আপডেট সময়: ১০:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পটুয়াখালী জেলায় হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলায় এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে পটুয়াখালীর অবস্থান পঞ্চম। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেলার তিনটি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একযোগে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে পটুয়াখালী জেলার এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে পটুয়াখালীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ও ভোলা। পিরোজপুরে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বরিশালে ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বরগুনায় ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ভোলায় ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে পটুয়াখালীতে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি, যেখানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৩৫০টি কলেজের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলার তিনটি কলেজ রয়েছে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিষয়টি জেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলও এবার আশাব্যঞ্জক নয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭০ জন। বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন।

গত বছর ২০২৫ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৭২৪ জন।

পটুয়াখালীর এবারের ফলাফল জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তিনটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ নয়, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত পাঠদান ও জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।