০৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাথায় গামছা, কৃষকের ছদ্মবেশে তহশিলদার! গলাচিপায় অবৈধ মাটি কাটার সময় আটক ২, জরিমানা এক লাখ টাকা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী অভিযান চালিয়েছেন ভূমি বিভাগের এক কর্মকর্তা। মাথায় গামছা বেঁধে কৃষকের ছদ্মবেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া স্লুইস সংলগ্ন নদীর তীরের সরকারি খাস জমিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং গলাচিপা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ মাটি কাটার খবর পেয়ে অভিযানে নামেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। অভিযানের কৌশল হিসেবে তিনি মাথায় গামছা বেঁধে সাধারণ কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে বোয়ালিয়া স্লুইস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় দুজনকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. আলাউদ্দিন মৃধা। তিনি বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মাধবপুর এলাকার আলতাফ মৃধার ছেলে। অপরজন রাকিব হাসান। তিনি শেরপুর জেলার লালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

অভিযানের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হকের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় আটক দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত দুজনই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের এ অভিযানকে সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag:

গলাচিপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হলো কুপনভিত্তিক মিড-ডে মিল ক্যান্টিন, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাবে শিক্ষার্থীরা

মাথায় গামছা, কৃষকের ছদ্মবেশে তহশিলদার! গলাচিপায় অবৈধ মাটি কাটার সময় আটক ২, জরিমানা এক লাখ টাকা

আপডেট সময়: ০৯:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী অভিযান চালিয়েছেন ভূমি বিভাগের এক কর্মকর্তা। মাথায় গামছা বেঁধে কৃষকের ছদ্মবেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া স্লুইস সংলগ্ন নদীর তীরের সরকারি খাস জমিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং গলাচিপা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ মাটি কাটার খবর পেয়ে অভিযানে নামেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। অভিযানের কৌশল হিসেবে তিনি মাথায় গামছা বেঁধে সাধারণ কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে বোয়ালিয়া স্লুইস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় দুজনকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. আলাউদ্দিন মৃধা। তিনি বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মাধবপুর এলাকার আলতাফ মৃধার ছেলে। অপরজন রাকিব হাসান। তিনি শেরপুর জেলার লালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

অভিযানের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হকের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় আটক দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত দুজনই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

নদীর তীরের সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের এ অভিযানকে সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।