০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার অভিযোগ, অবশেষে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন

পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী হওয়া মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান ও পিরোজপুরে দাফন নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করে তাঁর পরিবার। পরে বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে যান।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকে তাঁর শ্বশুরের মৃত্যু হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়ে কথা হলেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়াই চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রাখা হয়েছিল। পরে গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।”

এদিকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, “তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।”

তবে মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, “মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।”

Tag:
জনপ্রিয়

গোপালগঞ্জে মাছবাহী পিকআপের চাপায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল একই পরিবারের দুটি প্রাণ

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার অভিযোগ, অবশেষে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময়: ০৪:৫৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী হওয়া মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান ও পিরোজপুরে দাফন নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করে তাঁর পরিবার। পরে বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে যান।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকে তাঁর শ্বশুরের মৃত্যু হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়ে কথা হলেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়াই চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রাখা হয়েছিল। পরে গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।”

এদিকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, “তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।”

তবে মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, “মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।”