পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখর হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটিতে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে দ্বীপটির পর্যটন খাত নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যটন গমনবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। এর আগে প্রতিদিন পর্যটক প্রবেশের সীমা ছিল ২ হাজার। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপটিতে পর্যটক আগমনের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যটকদের ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই নির্দেশনার আওতায় পর্যটক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দ্বীপে রাত্রিযাপনের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া এসব পদক্ষেপের ফলে দ্বীপটির পর্যটন কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের ভাষ্য, পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ বন্ধ থাকায় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌযানসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে দ্বীপের অনেক বাসিন্দার জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, জীবিকার সংকটের কারণে কিছু বাসিন্দার মধ্যে গাছ কেটে ফেলা ও অবাধে মাছ ধরার মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডও দেখা গেছে। তাঁদের মতে, দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় পর্যটন কার্যক্রমের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিধিনিষেধ শিথিল এবং রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে তাঁদের সেই দাবির আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রাত্রিযাপনের সুযোগ চালুর ফলে সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে। পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দ্বীপটির বাসিন্দাদের জীবিকা এবং দেশের পর্যটনশিল্প—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্ক: 











