০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৩ কিলোমিটার সড়কে হাঁটুপানি কাদা, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ; দ্রুত পাকা করনের দাবি

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ঢালীর বাজার থেকে পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে থাকায় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাবনাবাদ নদীর কোলঘেঁষা গোলখালী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড নিয়ে নলুয়াবাগী এলাকা। এখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এলাকায় নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বলবুনিয়াসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নলুয়াবাগীতে প্রায় ৩২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা হলেও বাকি ২২ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কগুলো কাদা-পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়ক পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও মিলেছে শুধু আশ্বাস। বর্ষা এলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পোশাক, জুতা ও বই-খাতা কাদায় নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “নলুয়াবাগীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক এখনো কাঁচা। বর্ষায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে চরম অসুবিধা হয়। দ্রুত সড়কগুলো পাকাকরণ করা প্রয়োজন।’”

স্থানীয় বাসিন্দা মহাসিন সাংবাদিককে বলেন,”‘বছরের পর বছর ধরে নলুয়াবাগীর মানুষ অবহেলিত। বর্ষায় সড়কে হাঁটু সমান কাদা হয়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে অনেক সময় খাটিয়া ব্যবহার করতে হয়। নলুয়াবাগীর কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকাকরণ করা দরকার।”

আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, “৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে অসুস্থ রোগীকে কয়েক কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে খাটিয়ায় বহন করে নিতে হয়। পাকা সড়কে উঠতেও অনেককে চার কিলোমিটার পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।
সম্প্রতি অসুস্থ মাহতাব ফরাজিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনেরা খাটিয়ায় করে কাদা মাড়িয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা নলুয়াবাগীতে নতুন নয়। শুধু রোগী ও শিক্ষার্থীরাই নন, সড়কের বেহাল অবস্থায় কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও পরিবহণ খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। এতে কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সড়কটি পাকাকরণের জন্য এলজিইডি অধিদপ্তরে শিগগিরই প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

Tag:
জনপ্রিয়

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৩ কিলোমিটার সড়কে হাঁটুপানি কাদা, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ; দ্রুত পাকা করনের দাবি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৩ কিলোমিটার সড়কে হাঁটুপানি কাদা, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ; দ্রুত পাকা করনের দাবি

আপডেট সময়: ০৯:২৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ঢালীর বাজার থেকে পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে থাকায় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাবনাবাদ নদীর কোলঘেঁষা গোলখালী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড নিয়ে নলুয়াবাগী এলাকা। এখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এলাকায় নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বলবুনিয়াসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নলুয়াবাগীতে প্রায় ৩২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা হলেও বাকি ২২ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কগুলো কাদা-পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়ক পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও মিলেছে শুধু আশ্বাস। বর্ষা এলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পোশাক, জুতা ও বই-খাতা কাদায় নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “নলুয়াবাগীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক এখনো কাঁচা। বর্ষায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে চরম অসুবিধা হয়। দ্রুত সড়কগুলো পাকাকরণ করা প্রয়োজন।’”

স্থানীয় বাসিন্দা মহাসিন সাংবাদিককে বলেন,”‘বছরের পর বছর ধরে নলুয়াবাগীর মানুষ অবহেলিত। বর্ষায় সড়কে হাঁটু সমান কাদা হয়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে অনেক সময় খাটিয়া ব্যবহার করতে হয়। নলুয়াবাগীর কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকাকরণ করা দরকার।”

আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, “৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে অসুস্থ রোগীকে কয়েক কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে খাটিয়ায় বহন করে নিতে হয়। পাকা সড়কে উঠতেও অনেককে চার কিলোমিটার পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।
সম্প্রতি অসুস্থ মাহতাব ফরাজিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনেরা খাটিয়ায় করে কাদা মাড়িয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা নলুয়াবাগীতে নতুন নয়। শুধু রোগী ও শিক্ষার্থীরাই নন, সড়কের বেহাল অবস্থায় কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও পরিবহণ খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। এতে কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সড়কটি পাকাকরণের জন্য এলজিইডি অধিদপ্তরে শিগগিরই প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”