০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে মির্জাগঞ্জ: রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় নাকাল সাধারণ মানুষ

তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও সুবিদখালী সদর এলাকায় দেখা দেওয়া ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও মুহূর্তেই তা উধাও হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। রাতে ঘরের ভেতর টেকা দায় হয়ে পড়ায় অনেককে বাইরে খোলা আকাশের নিচে বা বারান্দায় সময় কাটাতে দেখা গেছে। ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

​লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। মোমবাতি বা রিচার্জেবল লাইটের আলোয় পড়াশোনা চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, কম্পিউটার কম্পোজের দোকান, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, কুলিং কর্নার ও বরফ কলের মতো বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আইপিএস বা জেনারেটর কেনার সামর্থ্য নেই। যারা জেনারেটর চালাচ্ছেন, জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে তাদের খরচ মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে।

​সুবিদখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ভ্যাপসা গরমে দোকানে বসে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবহার করা সম্ভব নয়। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

​চলমান এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে মির্জাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) পলক সাহা জানান, “মির্জাগঞ্জ জোনে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে মিলছে না পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ।”

​তিনি জানান, “দিনের বেলায় আমাদের সাড়ে ছয় মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র আড়াই থেকে তিন মেগাওয়াটের কাছাকাছি। আর রাতের বেলায় ৯ মেগাওয়াট বা তার বেশি চাহিদা থাকলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণেই মূলত আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সমন্বয় করতে হচ্ছে।”

​গ্রাহকদের এই চরম দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা আরও জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন।”

​তীব্র গরমের এই সময়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়ী ও কার্যকর উন্নতির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Tag:

ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে মির্জাগঞ্জ: রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় নাকাল সাধারণ মানুষ

আপডেট সময়: ০১:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও সুবিদখালী সদর এলাকায় দেখা দেওয়া ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও মুহূর্তেই তা উধাও হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। রাতে ঘরের ভেতর টেকা দায় হয়ে পড়ায় অনেককে বাইরে খোলা আকাশের নিচে বা বারান্দায় সময় কাটাতে দেখা গেছে। ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

​লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। মোমবাতি বা রিচার্জেবল লাইটের আলোয় পড়াশোনা চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, কম্পিউটার কম্পোজের দোকান, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, কুলিং কর্নার ও বরফ কলের মতো বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আইপিএস বা জেনারেটর কেনার সামর্থ্য নেই। যারা জেনারেটর চালাচ্ছেন, জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে তাদের খরচ মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে।

​সুবিদখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ভ্যাপসা গরমে দোকানে বসে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবহার করা সম্ভব নয়। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

​চলমান এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে মির্জাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) পলক সাহা জানান, “মির্জাগঞ্জ জোনে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে মিলছে না পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ।”

​তিনি জানান, “দিনের বেলায় আমাদের সাড়ে ছয় মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র আড়াই থেকে তিন মেগাওয়াটের কাছাকাছি। আর রাতের বেলায় ৯ মেগাওয়াট বা তার বেশি চাহিদা থাকলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণেই মূলত আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সমন্বয় করতে হচ্ছে।”

​গ্রাহকদের এই চরম দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা আরও জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন।”

​তীব্র গরমের এই সময়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়ী ও কার্যকর উন্নতির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।