০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে ডিবি পরিচয়ে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিলো সাংবাদিকের বাবার ৭৬ হাজার টাকা!

পটুয়াখালীর বাউফলে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ‘আজকের পত্রিকা’র বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আশিকুর রহমান তুষারের বাবা মোঃ বজলুর রহমানের (৬১) কাছ থেকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন, যার জিডি নম্বর ২৭ (তারিখ: ০১/০৬/২০২৬)।

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাত আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় বাউফল থানাধীন কাছিপাড়া ইউনিয়নের মান্দারবন গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মোঃ বজলুর রহমান। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিজেকে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা ‘সাইদুল ইসলাম’ পরিচয় দিয়ে একটি মোবাইল নম্বর (০১৩০৪০৩৭৮২৪) থেকে তাঁর ফোনে কল করে। ফোনে ওই ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে দাবি করে যে, বজলুর রহমানের সাংবাদিক ছেলেকে ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করেছে এবং এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে টাকা প্রয়োজন।

ছেলের বিপদের কথা শুনে কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করেই তাৎক্ষণিক চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা মোঃ বজলুর রহমান। তিনি সরল বিশ্বাসে প্রতারক চক্রের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ পার্সোনাল নম্বরে কয়েক দফায় সর্বমোট ৭৬,২৫০/- (ছিয়াত্তর হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা পাঠিয়ে দেন।

টাকা পাঠানোর বিবরণী থেকে জানা যায়, বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ০১৭৮৫৯৩৩০৩৪-এ ৮,১৮০ টাকা, অপর একটি বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ০১৬২৬৫২৫৪১৩-এ ১৮,৩৬০ টাকা এবং একটি নগদ পার্সোনাল নম্বর ০১৭৪৪৯২৩৫২১-এ তিন দফায় যথাক্রমে ৮,১২০ টাকা, ১৪,২০০ টাকা ও ২৭,৪০৫ টাকাসহ মোট ৭৬,২৫০ টাকা পাঠানো হয়।

টাকা পাঠানোর পর সন্দেহ হলে মোঃ বজলুর রহমান ওই কথিত পুলিশ কর্মকর্তার নম্বরে পুনরায় কল করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ছেলের সাথে যোগাযোগ করে তিনি নিশ্চিত হন যে, তিনি একটি বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে জিডিটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্তের জন্য এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করার এবং টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

বাউফলে ডিবি পরিচয়ে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিলো সাংবাদিকের বাবার ৭৬ হাজার টাকা!

বাউফলে ডিবি পরিচয়ে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিলো সাংবাদিকের বাবার ৭৬ হাজার টাকা!

আপডেট সময়: ১২:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ‘আজকের পত্রিকা’র বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আশিকুর রহমান তুষারের বাবা মোঃ বজলুর রহমানের (৬১) কাছ থেকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন, যার জিডি নম্বর ২৭ (তারিখ: ০১/০৬/২০২৬)।

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাত আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় বাউফল থানাধীন কাছিপাড়া ইউনিয়নের মান্দারবন গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মোঃ বজলুর রহমান। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিজেকে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা ‘সাইদুল ইসলাম’ পরিচয় দিয়ে একটি মোবাইল নম্বর (০১৩০৪০৩৭৮২৪) থেকে তাঁর ফোনে কল করে। ফোনে ওই ব্যক্তি অত্যন্ত কৌশলে দাবি করে যে, বজলুর রহমানের সাংবাদিক ছেলেকে ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করেছে এবং এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে টাকা প্রয়োজন।

ছেলের বিপদের কথা শুনে কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করেই তাৎক্ষণিক চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা মোঃ বজলুর রহমান। তিনি সরল বিশ্বাসে প্রতারক চক্রের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ পার্সোনাল নম্বরে কয়েক দফায় সর্বমোট ৭৬,২৫০/- (ছিয়াত্তর হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা পাঠিয়ে দেন।

টাকা পাঠানোর বিবরণী থেকে জানা যায়, বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ০১৭৮৫৯৩৩০৩৪-এ ৮,১৮০ টাকা, অপর একটি বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ০১৬২৬৫২৫৪১৩-এ ১৮,৩৬০ টাকা এবং একটি নগদ পার্সোনাল নম্বর ০১৭৪৪৯২৩৫২১-এ তিন দফায় যথাক্রমে ৮,১২০ টাকা, ১৪,২০০ টাকা ও ২৭,৪০৫ টাকাসহ মোট ৭৬,২৫০ টাকা পাঠানো হয়।

টাকা পাঠানোর পর সন্দেহ হলে মোঃ বজলুর রহমান ওই কথিত পুলিশ কর্মকর্তার নম্বরে পুনরায় কল করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ছেলের সাথে যোগাযোগ করে তিনি নিশ্চিত হন যে, তিনি একটি বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে জিডিটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্তের জন্য এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রেজাউল করিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করার এবং টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।