০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম  ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫ টায় গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়াডের ইসকন মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মকারপট্টি শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আগামী এক সপ্তাহ জগন্নাথদেবের বিগ্রহ অবস্থান করবে।

পরে আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহটি আবার ইসকন মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে। রথযাত্রায় ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে পুরো শোভাযাত্রা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা ইসকন কমিটির সভাপতি বাবু বাসুদেব দুয়ারী, গোবিন্দ সাহা, উত্তম কর্মকার, বিনয় কর্মকার, দীপক কর্মকার, বিধান কর্মকার, কাজল বরন বিশ্বাস, রনজিত দাস, কেশব দাস,পরেশ দাস, নরেশ দাস, প্রবীর পোদ্দার, স্বপন দাস, সমীর পোদ্দার, সন্তোষ বসু, সুভাষ দাস, রতন সাহা, নির্জন সাহা, কমল সরকার,ছবি রানী, টুনূ রানী, পুতুল রানী, বাসনা রানী, আলো রানী, মাধবী রানী, কল্পনা রানী, কাজল রানী, সুমা রানী ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র মতে ও বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেব তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শ্রীবলরাম (বলভদ্র) এবং ভগিনী দেবী শুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে রথে আরোহণ করে শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে যাত্রা করেন। এই গুণ্ডিচা মন্দিরকে ভক্তরা স্নেহভরে “মাসির বাড়ি” নামে অভিহিত করেন।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে একবার জগন্নাথদেব তার ভাই ও বোনকে নিয়ে মাসির বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সময় তারা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এসে তাদের দর্শন দেন এবং ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌছে তারা প্রায় সাত দিন অবস্থান করেন। এই অবস্থানকালকে ভক্তরা অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় সময় হিসেবে পালন করেন। সাত দিন পর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জগন্নাথদেব, বলরাম ও শুভদ্রা পুনরায় রথে চড়ে নিজ আবাস শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন।

রথযাত্রার এই আচার শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় এটি ভগবান ও ভক্তের মিলনের প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে বিশ্বাস করা হয়, ভগবান নিজেই মন্দিরের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের দ্বারে আসেন, যাতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তার দর্শন ও আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

গলাচিপায় বিদায়ী বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনকে আইনজীবীদের সংবর্ধনা

গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত

আপডেট সময়: ১১:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম  ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫ টায় গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়াডের ইসকন মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মকারপট্টি শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আগামী এক সপ্তাহ জগন্নাথদেবের বিগ্রহ অবস্থান করবে।

পরে আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহটি আবার ইসকন মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে। রথযাত্রায় ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে পুরো শোভাযাত্রা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা ইসকন কমিটির সভাপতি বাবু বাসুদেব দুয়ারী, গোবিন্দ সাহা, উত্তম কর্মকার, বিনয় কর্মকার, দীপক কর্মকার, বিধান কর্মকার, কাজল বরন বিশ্বাস, রনজিত দাস, কেশব দাস,পরেশ দাস, নরেশ দাস, প্রবীর পোদ্দার, স্বপন দাস, সমীর পোদ্দার, সন্তোষ বসু, সুভাষ দাস, রতন সাহা, নির্জন সাহা, কমল সরকার,ছবি রানী, টুনূ রানী, পুতুল রানী, বাসনা রানী, আলো রানী, মাধবী রানী, কল্পনা রানী, কাজল রানী, সুমা রানী ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র মতে ও বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেব তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শ্রীবলরাম (বলভদ্র) এবং ভগিনী দেবী শুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে রথে আরোহণ করে শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে যাত্রা করেন। এই গুণ্ডিচা মন্দিরকে ভক্তরা স্নেহভরে “মাসির বাড়ি” নামে অভিহিত করেন।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে একবার জগন্নাথদেব তার ভাই ও বোনকে নিয়ে মাসির বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সময় তারা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এসে তাদের দর্শন দেন এবং ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌছে তারা প্রায় সাত দিন অবস্থান করেন। এই অবস্থানকালকে ভক্তরা অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় সময় হিসেবে পালন করেন। সাত দিন পর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জগন্নাথদেব, বলরাম ও শুভদ্রা পুনরায় রথে চড়ে নিজ আবাস শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন।

রথযাত্রার এই আচার শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় এটি ভগবান ও ভক্তের মিলনের প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে বিশ্বাস করা হয়, ভগবান নিজেই মন্দিরের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের দ্বারে আসেন, যাতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তার দর্শন ও আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।