০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযোগের মুখে সুবিদখালী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের পাল্টা ব্যাখ্যা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ মে (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে ড. আবদুর রহমান দাবি করেন, উপজেলার নারী উচ্চশিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ সুবিদখালী মহিলা কলেজের সুনাম ও তার ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই উল্লেখ করে তিনি একে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. বেল্লাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ জানান, বেল্লাল উদ্দিন ২০০৫ সালের ১ মার্চ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তবে যোগদানের দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর তিনি আর কোনোদিন কলেজে আসেননি বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেননি। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে পর পর তিনবার (২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে) কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

অধ্যক্ষ আরও জানান, পেশাগত অসদাচরণ ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১১ সালের ১৩ মে বেল্লাল উদ্দিনকে বিধি মোতাবেক চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সঠিক বলে অনুমোদন প্রদান করে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং- ১০০/২০২০)।

সম্প্রতি বেল্লাল উদ্দিন থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ১৩ লক্ষ টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করেছেন, তাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে ড. আবদুর রহমান বলেন, “নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়টি গভর্নিং বডির এখতিয়ার। আমি কেবল সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং অভিযোগকারী এর কোনো প্রমাণও দিতে পারেননি।”

অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগটি সত্য নয়। কলেজের মসজিদের জন্য জমিটি দাতা সদস্য ও তার উত্তরাধিকারীরা দান করেছেন, যা বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া জনৈক হুমায়ুন কবির মোল্লার টাকা লেনদেনের অভিযোগটিও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সবসময় বিধি মোতাবেক ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্যক্তিগত লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

অভিযোগের মুখে সুবিদখালী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের পাল্টা ব্যাখ্যা

অভিযোগের মুখে সুবিদখালী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের পাল্টা ব্যাখ্যা

আপডেট সময়: ১১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ মে (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে ড. আবদুর রহমান দাবি করেন, উপজেলার নারী উচ্চশিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ সুবিদখালী মহিলা কলেজের সুনাম ও তার ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই উল্লেখ করে তিনি একে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. বেল্লাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ জানান, বেল্লাল উদ্দিন ২০০৫ সালের ১ মার্চ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তবে যোগদানের দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর তিনি আর কোনোদিন কলেজে আসেননি বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেননি। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে পর পর তিনবার (২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে) কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

অধ্যক্ষ আরও জানান, পেশাগত অসদাচরণ ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১১ সালের ১৩ মে বেল্লাল উদ্দিনকে বিধি মোতাবেক চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সঠিক বলে অনুমোদন প্রদান করে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং- ১০০/২০২০)।

সম্প্রতি বেল্লাল উদ্দিন থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ১৩ লক্ষ টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করেছেন, তাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে ড. আবদুর রহমান বলেন, “নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়টি গভর্নিং বডির এখতিয়ার। আমি কেবল সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং অভিযোগকারী এর কোনো প্রমাণও দিতে পারেননি।”

অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগটি সত্য নয়। কলেজের মসজিদের জন্য জমিটি দাতা সদস্য ও তার উত্তরাধিকারীরা দান করেছেন, যা বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া জনৈক হুমায়ুন কবির মোল্লার টাকা লেনদেনের অভিযোগটিও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সবসময় বিধি মোতাবেক ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্যক্তিগত লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।