পটুয়াখালীর বাউফলে ফিরোজ গাজী নামে এক তরমুজ চাষীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান (৩৫) ও শামীম (৩২) নামে আরও দুই যুবক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষী ফিরোজের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে ফিরোজ তাঁর চাষাবাদ করা তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলারে তুলছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে চাঁদা দাবি করা মিজানুর ৭/৮ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে ফিরোজের তরমুজ কাটায় বাধা দেয় এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ফিরোজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফিরোজের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর, উজ্জল ও শামীমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়, এতে তারা গুরুতর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জল কর্মকার মারা যান। আহত তরমুজ চাষী ফিরোজ ও হামলাকারী শামীমকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান চাঁদার দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে না বলায় ফিরোজ আমার লোকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।”
এম জাফরান হারুন, প্রধান প্রতিবেদক: 







