০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি এমন একটি ম*রণ*ঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন”- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অধ্যক্ষ মাসুদ আলম বাবুল

  • মাসুদ আলম বাবুল:
  • আপডেট সময়: ০৩:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১০৮১ বার পড়া হয়েছে

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়,

আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি এমন একটি মরণঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়গুলোর একটি হলো এর ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ বিষয়ে শিক্ষক সমাজের উৎকণ্ঠা দীর্ঘদিনের। সেই দীর্ঘ প্রত্যাশা ও চড়াই-উতরাইয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার একটি যৌক্তিক ও শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

অর্থাৎ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে স্নাতক এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্য কথায়, প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সমান হবে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা—এমন একটি যুক্তিসঙ্গত নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

আপনার প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে রাজনীতি ও গণ্ডমূর্খদের প্রভাববলয় থেকে বের করে আনুন। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ তাঁর ভদ্রতা, শিক্ষা ও কলমের ভাষায় কথা বলেন। পান থেকে চুন খসলেই তিনি কোনো শিক্ষককে অশ্রাব্য গালমন্দ করবেন না কিংবা চড়-থাপ্পড় মারবেন না।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব একটি শিক্ষিত পরিচালনা পর্ষদ এবং একজন উচ্চশিক্ষিত সভাপতির মেধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে। তাই এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য আপনার কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি।

দেশের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কিংবা শিক্ষা অনুরাগী মানুষের নিরানব্বই শতাংশই আপনার এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, এক শতাংশের স্বার্থ রক্ষার্থে আপনার প্রিয় শিক্ষকদের মাথা নতজানু করে দেবেন না।

শিক্ষকদের পেটে হয়তো ভাত কম আছে, কিন্তু তারা অন্তত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জন্ম থেকে সেই সম্মানটুকুও অনেক সময় তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। শিক্ষকরা পড়াতে চান, পাঠদানে তারা নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে পারে।

কিন্তু যখন শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে আসতে হয় নিজেদের অস্থিমজ্জা ও মেরুদণ্ড বন্ধক রেখে, তখন আশানুরূপ ফল পাওয়া একপ্রকার অবাস্তব প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি বাংলাদেশের একজন যোগ্য, বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারী, সৎ ও শিক্ষাবান্ধব শিক্ষামন্ত্রী। আমরা আপনার দিকেই তাকিয়ে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই জনবান্ধবহীন প্রহসন আপনি রোধ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলালেই মানুষের অভিব্যক্তি আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন। তাই শতভাগ ভরসা রাখছি আপনার ওপর। আপনার আন্তরিক সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসকে ব্যর্থ করবে না—এই আশা রাখি।

বিনীত
মাসুদ আলম বাবুল
একজন শিক্ষক ও শিক্ষা-অনুরাগী।

Tag:
জনপ্রিয়

দশমিনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শান্তিপূর্ণভাবে দুই গ্রুপের পৃথক মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি এমন একটি ম*রণ*ঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন”- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অধ্যক্ষ মাসুদ আলম বাবুল

আপডেট সময়: ০৩:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়,

আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি এমন একটি মরণঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়গুলোর একটি হলো এর ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ বিষয়ে শিক্ষক সমাজের উৎকণ্ঠা দীর্ঘদিনের। সেই দীর্ঘ প্রত্যাশা ও চড়াই-উতরাইয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার একটি যৌক্তিক ও শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

অর্থাৎ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে স্নাতক এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্য কথায়, প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সমান হবে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা—এমন একটি যুক্তিসঙ্গত নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

আপনার প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে রাজনীতি ও গণ্ডমূর্খদের প্রভাববলয় থেকে বের করে আনুন। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ তাঁর ভদ্রতা, শিক্ষা ও কলমের ভাষায় কথা বলেন। পান থেকে চুন খসলেই তিনি কোনো শিক্ষককে অশ্রাব্য গালমন্দ করবেন না কিংবা চড়-থাপ্পড় মারবেন না।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব একটি শিক্ষিত পরিচালনা পর্ষদ এবং একজন উচ্চশিক্ষিত সভাপতির মেধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে। তাই এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য আপনার কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি।

দেশের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কিংবা শিক্ষা অনুরাগী মানুষের নিরানব্বই শতাংশই আপনার এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, এক শতাংশের স্বার্থ রক্ষার্থে আপনার প্রিয় শিক্ষকদের মাথা নতজানু করে দেবেন না।

শিক্ষকদের পেটে হয়তো ভাত কম আছে, কিন্তু তারা অন্তত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে জন্ম থেকে সেই সম্মানটুকুও অনেক সময় তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। শিক্ষকরা পড়াতে চান, পাঠদানে তারা নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে পারে।

কিন্তু যখন শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে আসতে হয় নিজেদের অস্থিমজ্জা ও মেরুদণ্ড বন্ধক রেখে, তখন আশানুরূপ ফল পাওয়া একপ্রকার অবাস্তব প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি বাংলাদেশের একজন যোগ্য, বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারী, সৎ ও শিক্ষাবান্ধব শিক্ষামন্ত্রী। আমরা আপনার দিকেই তাকিয়ে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই জনবান্ধবহীন প্রহসন আপনি রোধ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলালেই মানুষের অভিব্যক্তি আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন। তাই শতভাগ ভরসা রাখছি আপনার ওপর। আপনার আন্তরিক সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসকে ব্যর্থ করবে না—এই আশা রাখি।

বিনীত
মাসুদ আলম বাবুল
একজন শিক্ষক ও শিক্ষা-অনুরাগী।