০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃত করতে বরিশালে বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  • মেঃ ফেরদৌস:
  • আপডেট সময়: ০৯:৫২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারী আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ বিভাগীয় সম্মেলন। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই থেকে শনিবার ১ আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন করেন নারীপক্ষ। তিনদিন ব্যাপি এ সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার তৃণমূল নারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, তরুন নারী ও রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীসহ প্রায় ১২০ জন অংশগ্রহণ কারেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নারীপক্ষের ৭ম জাতীয় নারী সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এ বিভাগীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

১৯৮৩ সাল থেকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীকে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও মর্যদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে আসছে। নারীপক্ষ প্রতি ৩-৫ বছর অন্তর সারাদেশের তৃণমূল নারী সংগঠনসমূহকে নিয়ে জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। আয়োজকরা জানন, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল, নারী আন্দোলনের স্বতন্ত্র ধারা বিনির্মাণ, চলমান রাখা ও বিস্তৃতি ঘটানো এবং নতুব প্রজন্মকে যুক্ত করা।

উদ্বোধনী পর্বের প্লেনারি আলোচনায় রাজনৈতিক নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী, দুর্বার নেত্রী ও তারুণ্যের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, তৃণমূল নারীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও সাহস নারী আন্দোলনের অন্যতম শক্তি।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত পরিবর্তন, তৃণমূলভিত্তিক আন্দোলন শক্তিশালীকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্ম নেতৃত্বের বিকাশ। আইন, আদালত ও বাস্তবতা। সামাজিক প্রথা ও মূল্যবোধ মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, সম্মান এবং ক্ষমতা।ব্যক্তিজীবন ও জনপরিসরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নারী অধিকার আন্দোলনে পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পরিবার থেকেই লিঙ্গসমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনীতি, স্থানীয় সরকার ও জনপরিসরে নারীর নিরাপদ ও কার্যকর অংশগ্রহণ।নারীবান্ধব অবকাঠামো ও সেবা বৃদ্ধি করতে হবে, যেমন নিরাপদ গণশৌচাগার, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নারীদের জন্য আবাসন এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক ও সদস্য কামরুন নাহার। প্রতিবেদনের ৪৩৩টি সুপারিশের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিক ৫১টি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেলাভিত্তিক দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে তিনটি করে কাজ নির্ধারণ করেন। কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিকে সক্রিয় করা, নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠে আসে।

পরিষেবা বা সহায়তার সম্প্রসারণ করার দাবী: ক) বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশে বিদ্যমান বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা। নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থল ও আবাসস্থলে এলাকার ভিত্তিতে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রস্থাপন, কর্মজীবী নারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি আবাসিক হোস্টেল স্থাপন, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যাপ্ত মানবসম্পদ ও বাজেট বরাদ্দ রাখা। নারীর উপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচিগুলোকে আরও শক্তিশালী করা। নারী ও শিশুদের জন্য জনপরিসরে নিরাপদ স্থান চিহ্নিত ও নিশ্চিত করা। বাস টার্মিনাল, পেট্রোল পাম্প ও সড়ক পরিষ্কার, আলোকিত করা ও সিসিটিভি দ্বারা নিরাপদ রাখতে হবে। পূর্বের লেডিস পার্ক’ এর আঙ্গীকে নারীদের জন্য পুনঃপ্রবর্তন করা, যেখানে উপযুক্ত টয়লেট ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা থাকবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের জেন্ডার-সংবেদনশীল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা অনুসরণ করা যেতে পারে।

সহিংসতামুক্ত নারীর জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে যেসকল ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে দলীয় আলোচনা করা হয় ক) আইন, আদালত ও বাস্তবতা, খ) ব্যক্তিজীবন ও জনপরিসর, গ) সামাজিক প্রথা ও মূল্যবোধ, এবং ঘ) মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, সম্মান ও ক্ষমতা। এই বিষয়গুলো আলোচনায় যেসকল সমস্যা ও সমাধান উঠে এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

সমস্যা: লহিংসতার শিকার নারীর আইনের প্রতিকার ও আলামত সংরক্ষণের যথাযথ তথ্য না জানা, এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অসংবেদনশীল আচরণের কারণে সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

সমাধান: পরিবার ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সামাজিক বৈষম্যমুলক প্রথার কুফল নিয়ে আলোচনা করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে মেয়েদের সম্পর্কে অশালীন/কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সমস্যা: গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা নিয়মিত হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হন এতে করে নারীর কমারীসবে টিকে থাকা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

সমাধান: পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সুযোগ সুবিধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুজির উপর পুরুষের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্র নারী পুরুষের সমতাভিত্তিক, মানবিক রাষ্ট্র গঠনে জনমত গঠন করা।

সমস্যা:পরিবার ও সমাজ জোর জবরদস্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ, এবং ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোড়ামি চর্চা সমর্থন করে আসে।

সমাধান: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নারীর উপর সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্ব প্রাপ্ত কমিটিগুলোকে সাল করা ও জবাবদিহিতার আওতায় না এবং ভুক্তভুগির গোপনীয়তা বজায় রাখা ও সুষ্ঠু তদন্ত করা।

সমস্যা: নারী পুরুষের পারস্পারিক সম্পর্কে, সম্মান ও ভালোবাধার পরিবর্তে ক্ষমতাকে নারীর উপর প্রয়োগ করার কারণে পারস্পারিক মর্যাদাপূর্ণ মানবিক সম্পর্ক গঠনের অন্তরায়।

সমাধান: সহিংসতা প্রতিকারে যেসকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সেবা প্রদান করে থাকে, সেসকল তথ্যের সর্বস্তরে প্রচার-প্রচারণ বাড়ানো, যেমন: বাড়ি পরিদর্শন, ও কমিউনিটির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বাড়ানো।

সম্মেলনের একটি অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ এর উদ্দেশ্য, কাঠামো ও ওয়েবসাইট ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে এ ট্র্যাকারের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারে নারী বিষয়ক কমিশনের ১৯টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে নারীপক্ষের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নারীপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্বার ও তরুণ নেতৃকর্মীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে নারী আন্দোলনের নেতৃকর্মীদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে নারী সুন্দর, বুদ্ধিমান ও ধৈর্যশীল। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের এবং এ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Tag:

নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃত করতে বরিশালে বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃত করতে বরিশালে বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেট সময়: ০৯:৫২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারী আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ বিভাগীয় সম্মেলন। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই থেকে শনিবার ১ আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন করেন নারীপক্ষ। তিনদিন ব্যাপি এ সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার তৃণমূল নারী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, তরুন নারী ও রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীসহ প্রায় ১২০ জন অংশগ্রহণ কারেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নারীপক্ষের ৭ম জাতীয় নারী সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এ বিভাগীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

১৯৮৩ সাল থেকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীকে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও মর্যদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে আসছে। নারীপক্ষ প্রতি ৩-৫ বছর অন্তর সারাদেশের তৃণমূল নারী সংগঠনসমূহকে নিয়ে জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। আয়োজকরা জানন, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল, নারী আন্দোলনের স্বতন্ত্র ধারা বিনির্মাণ, চলমান রাখা ও বিস্তৃতি ঘটানো এবং নতুব প্রজন্মকে যুক্ত করা।

উদ্বোধনী পর্বের প্লেনারি আলোচনায় রাজনৈতিক নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী, দুর্বার নেত্রী ও তারুণ্যের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, তৃণমূল নারীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও সাহস নারী আন্দোলনের অন্যতম শক্তি।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত পরিবর্তন, তৃণমূলভিত্তিক আন্দোলন শক্তিশালীকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্ম নেতৃত্বের বিকাশ। আইন, আদালত ও বাস্তবতা। সামাজিক প্রথা ও মূল্যবোধ মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, সম্মান এবং ক্ষমতা।ব্যক্তিজীবন ও জনপরিসরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নারী অধিকার আন্দোলনে পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পরিবার থেকেই লিঙ্গসমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনীতি, স্থানীয় সরকার ও জনপরিসরে নারীর নিরাপদ ও কার্যকর অংশগ্রহণ।নারীবান্ধব অবকাঠামো ও সেবা বৃদ্ধি করতে হবে, যেমন নিরাপদ গণশৌচাগার, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নারীদের জন্য আবাসন এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক ও সদস্য কামরুন নাহার। প্রতিবেদনের ৪৩৩টি সুপারিশের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিক ৫১টি সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেলাভিত্তিক দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে তিনটি করে কাজ নির্ধারণ করেন। কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিকে সক্রিয় করা, নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠে আসে।

পরিষেবা বা সহায়তার সম্প্রসারণ করার দাবী: ক) বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশে বিদ্যমান বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা। নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থল ও আবাসস্থলে এলাকার ভিত্তিতে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রস্থাপন, কর্মজীবী নারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি আবাসিক হোস্টেল স্থাপন, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যাপ্ত মানবসম্পদ ও বাজেট বরাদ্দ রাখা। নারীর উপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচিগুলোকে আরও শক্তিশালী করা। নারী ও শিশুদের জন্য জনপরিসরে নিরাপদ স্থান চিহ্নিত ও নিশ্চিত করা। বাস টার্মিনাল, পেট্রোল পাম্প ও সড়ক পরিষ্কার, আলোকিত করা ও সিসিটিভি দ্বারা নিরাপদ রাখতে হবে। পূর্বের লেডিস পার্ক’ এর আঙ্গীকে নারীদের জন্য পুনঃপ্রবর্তন করা, যেখানে উপযুক্ত টয়লেট ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা থাকবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের জেন্ডার-সংবেদনশীল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা অনুসরণ করা যেতে পারে।

সহিংসতামুক্ত নারীর জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে যেসকল ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে দলীয় আলোচনা করা হয় ক) আইন, আদালত ও বাস্তবতা, খ) ব্যক্তিজীবন ও জনপরিসর, গ) সামাজিক প্রথা ও মূল্যবোধ, এবং ঘ) মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, সম্মান ও ক্ষমতা। এই বিষয়গুলো আলোচনায় যেসকল সমস্যা ও সমাধান উঠে এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

সমস্যা: লহিংসতার শিকার নারীর আইনের প্রতিকার ও আলামত সংরক্ষণের যথাযথ তথ্য না জানা, এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অসংবেদনশীল আচরণের কারণে সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

সমাধান: পরিবার ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সামাজিক বৈষম্যমুলক প্রথার কুফল নিয়ে আলোচনা করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে মেয়েদের সম্পর্কে অশালীন/কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সমস্যা: গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা নিয়মিত হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হন এতে করে নারীর কমারীসবে টিকে থাকা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

সমাধান: পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সুযোগ সুবিধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুজির উপর পুরুষের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্র নারী পুরুষের সমতাভিত্তিক, মানবিক রাষ্ট্র গঠনে জনমত গঠন করা।

সমস্যা:পরিবার ও সমাজ জোর জবরদস্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ, এবং ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোড়ামি চর্চা সমর্থন করে আসে।

সমাধান: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নারীর উপর সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্ব প্রাপ্ত কমিটিগুলোকে সাল করা ও জবাবদিহিতার আওতায় না এবং ভুক্তভুগির গোপনীয়তা বজায় রাখা ও সুষ্ঠু তদন্ত করা।

সমস্যা: নারী পুরুষের পারস্পারিক সম্পর্কে, সম্মান ও ভালোবাধার পরিবর্তে ক্ষমতাকে নারীর উপর প্রয়োগ করার কারণে পারস্পারিক মর্যাদাপূর্ণ মানবিক সম্পর্ক গঠনের অন্তরায়।

সমাধান: সহিংসতা প্রতিকারে যেসকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সেবা প্রদান করে থাকে, সেসকল তথ্যের সর্বস্তরে প্রচার-প্রচারণ বাড়ানো, যেমন: বাড়ি পরিদর্শন, ও কমিউনিটির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বাড়ানো।

সম্মেলনের একটি অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ এর উদ্দেশ্য, কাঠামো ও ওয়েবসাইট ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে এ ট্র্যাকারের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারে নারী বিষয়ক কমিশনের ১৯টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে নারীপক্ষের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নারীপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্বার ও তরুণ নেতৃকর্মীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে নারী আন্দোলনের নেতৃকর্মীদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে নারী সুন্দর, বুদ্ধিমান ও ধৈর্যশীল। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের এবং এ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।