১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আসামিকে অপহরণ করলো বাদী; উদ্ধার করলো পুলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকা থেকে ফিল্মি স্টাইলে এক মামলার আসামিকে অপহরণ করে ঐ মামলার বাদী। এ ঘটনার একটি সিসি টিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১২:৩০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৭ডিসেম্বর) ঘটনাটি গণমাধ্যমের সামনে আসে। অপহৃত ব্যক্তি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার গাওরার গ্রামের মৃত আহাম্মদ ছালামের ছেলে মোস্তফা কামাল।

পরে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষনিক আসামী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান হাসিব লিখিত আকারে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারককে অবহিত করলে আদালত সঙ্গে সঙ্গে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকে উদ্ধার পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোস্তফা কামাল নামে ঐ ব্যক্তি হাজিরা শেষ করে ফেরার পথে পটুয়াখালী কোর্টের সামনে থেকে মামলার বাদী ও তার পূর্বের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নেতৃত্বে কিছু অজ্ঞাতনামা লোক তাকে জোরপূর্বক অটোতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ভিকটিম মোস্তফা কামাল (মোস্তাফিজুর রহমান) বলেন, “আমার বাড়ি গাজিপুর জেলায়, এখানের কাউকে আমি চিনিনা। অঠোতে উঠিয়ে বাউফল উপজেলা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারধর করে ও খুনের হুমকি দামকি দিয়ে আমার কাছে থাকা নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং একটি ব্ল্যাঙ্ক নিকাহ নামায় স্বাক্ষর নেয়। কিছুক্ষণ পরে বাউফল থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে, কোর্টে পাঠায় এবং আইনজীবীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, “কোর্টের নির্দেশ মতে পাওয়া সংবাদে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের নিকট হস্তান্তর করি। এরপর কোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।”

আইনজীবী সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান হাসিব জানায়, “মঙ্গলবার আমার মক্কেল মোস্তাফা কামালের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সি আর ৪৯৭/২০২৩ মামলার তারিখ ধার্য্য থাকায় আদালতে হাজির হতে আসে। হাজিরা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফিরে যাওয়ার সময় মামলার বাদী নাসরিন সন্ত্রাসীদের নিয়ে জোর পুর্বক অটো রিক্সায় করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আদালতের দৃষ্টিতে নিয়ে আসলে আদালত দ্রুত উদ্ধার ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দিলে, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং আদালতের মাধ্যমে আমার জিম্মায় হস্তান্তর করে। এবিষয়ে আমরা বিজ্ঞ আদালতে একটি অপহরণ মামলার আবেদন করবো।”

Tag:

পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজ ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কিনলেন বাবা! শিশুটিকে উদ্ধারে নেমেছে পুলিশ

পটুয়াখালীতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আসামিকে অপহরণ করলো বাদী; উদ্ধার করলো পুলিশ

আপডেট সময়: ০৩:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকা থেকে ফিল্মি স্টাইলে এক মামলার আসামিকে অপহরণ করে ঐ মামলার বাদী। এ ঘটনার একটি সিসি টিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১২:৩০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৭ডিসেম্বর) ঘটনাটি গণমাধ্যমের সামনে আসে। অপহৃত ব্যক্তি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার গাওরার গ্রামের মৃত আহাম্মদ ছালামের ছেলে মোস্তফা কামাল।

পরে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষনিক আসামী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান হাসিব লিখিত আকারে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারককে অবহিত করলে আদালত সঙ্গে সঙ্গে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকে উদ্ধার পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোস্তফা কামাল নামে ঐ ব্যক্তি হাজিরা শেষ করে ফেরার পথে পটুয়াখালী কোর্টের সামনে থেকে মামলার বাদী ও তার পূর্বের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নেতৃত্বে কিছু অজ্ঞাতনামা লোক তাকে জোরপূর্বক অটোতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ভিকটিম মোস্তফা কামাল (মোস্তাফিজুর রহমান) বলেন, “আমার বাড়ি গাজিপুর জেলায়, এখানের কাউকে আমি চিনিনা। অঠোতে উঠিয়ে বাউফল উপজেলা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারধর করে ও খুনের হুমকি দামকি দিয়ে আমার কাছে থাকা নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং একটি ব্ল্যাঙ্ক নিকাহ নামায় স্বাক্ষর নেয়। কিছুক্ষণ পরে বাউফল থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে, কোর্টে পাঠায় এবং আইনজীবীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, “কোর্টের নির্দেশ মতে পাওয়া সংবাদে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের নিকট হস্তান্তর করি। এরপর কোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।”

আইনজীবী সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান হাসিব জানায়, “মঙ্গলবার আমার মক্কেল মোস্তাফা কামালের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সি আর ৪৯৭/২০২৩ মামলার তারিখ ধার্য্য থাকায় আদালতে হাজির হতে আসে। হাজিরা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফিরে যাওয়ার সময় মামলার বাদী নাসরিন সন্ত্রাসীদের নিয়ে জোর পুর্বক অটো রিক্সায় করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আদালতের দৃষ্টিতে নিয়ে আসলে আদালত দ্রুত উদ্ধার ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দিলে, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং আদালতের মাধ্যমে আমার জিম্মায় হস্তান্তর করে। এবিষয়ে আমরা বিজ্ঞ আদালতে একটি অপহরণ মামলার আবেদন করবো।”