০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে বাংলাদেশে স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেটা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে উল্টো পথে হাঁটানোর চেষ্টা করা হয়।

দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র উল্টো পথে হেঁটেছে। এরপর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যে চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র রচিত হয়েছে সেই চেতনাগুলোকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত দুস্থ ও মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ জেড এম শরীফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবুল চন্দ্র শর্মা, উত্তম কুমার শর্মা, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, সাধারন সম্পাদক অসীম কুমার দেব প্রমূখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। আমরা দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছিলাম সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়টাকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু আমরা বাঙালিদের আবহমানকাল ধরে লালিত সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের কাছে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। আমাদের কাছে বাঙালি পরিচয় হচ্ছে মুখ্য।

তিনি বলেন, যখন আমরা দেখতে পেলাম ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য করতে গিয়ে আমাদের বাঙালি পরিচয়ের উপর আঘাত আসছে, বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে, বাংলা ভাষার উপর আঘাত আসছে, তখন আমরা সেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্রে ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার- এই স্লোগানে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এই নীতিতে বিশ্বাস করেন, সেই কারণে এই কথা তিনি সব সময় বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে যখন পূজা উৎসব হয়, তখন সেটা শুধু হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেই উৎসবে মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবার মাঝে উৎসবের আনন্দ সঞ্চারিত হয়। আমাদের দেশে যখন ঈদ উৎসব হয় সেই আনন্দ শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একইভাবে যখন প্রবারণা পূর্ণিমা হয় তখন ফানুস উড়ানোর উৎসব শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য। এটাই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

অভিযোগের মুখে সুবিদখালী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের পাল্টা ব্যাখ্যা

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময়: ০৪:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০

চট্টগ্রাম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে বাংলাদেশে স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেটা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে উল্টো পথে হাঁটানোর চেষ্টা করা হয়।

দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র উল্টো পথে হেঁটেছে। এরপর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যে চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র রচিত হয়েছে সেই চেতনাগুলোকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত দুস্থ ও মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ জেড এম শরীফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবুল চন্দ্র শর্মা, উত্তম কুমার শর্মা, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, সাধারন সম্পাদক অসীম কুমার দেব প্রমূখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। আমরা দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছিলাম সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়টাকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু আমরা বাঙালিদের আবহমানকাল ধরে লালিত সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের কাছে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। আমাদের কাছে বাঙালি পরিচয় হচ্ছে মুখ্য।

তিনি বলেন, যখন আমরা দেখতে পেলাম ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য করতে গিয়ে আমাদের বাঙালি পরিচয়ের উপর আঘাত আসছে, বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে, বাংলা ভাষার উপর আঘাত আসছে, তখন আমরা সেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্রে ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার- এই স্লোগানে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এই নীতিতে বিশ্বাস করেন, সেই কারণে এই কথা তিনি সব সময় বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে যখন পূজা উৎসব হয়, তখন সেটা শুধু হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেই উৎসবে মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবার মাঝে উৎসবের আনন্দ সঞ্চারিত হয়। আমাদের দেশে যখন ঈদ উৎসব হয় সেই আনন্দ শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একইভাবে যখন প্রবারণা পূর্ণিমা হয় তখন ফানুস উড়ানোর উৎসব শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য। এটাই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।