দেশের সর্বদক্ষিণে উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জেলা পটুয়াখালী। এ জেলাটি সাগরকন্যা কুয়াকাটার জন্য সুপরিচিত। এ কুয়াকাটায় একইস্থানে বসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে বরগুনা জেলা, পূর্বে ভোলা জেলা। এর আয়তন ৩,২২১.৩১ বর্গ কিলোমিটার। এ জেলায় রয়েছে ৫টি পৌরসভা, ৮টি উপজেলা ও ৭৭টি ইউনিয়ন। এ জেলায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক লোক বসবাস করে।
এখানে রয়েছে পায়রা সমুদ্র বন্দর, পায়রা পোর্ট, পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্র, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েছে মরহুম ইয়ার উদ্দীন খলিফা (রঃ) মাজার, নির্মাণ হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)।
পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পটুয়াখালী হাসপাতালটিতে ১৭টি সিনিয়র জুনিয়র কনসালটেন্টসহ ১৩০টি পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পটুয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য অনুমোদিত ১১টি সিনিয়র কনসালটেন্ট পদের মধ্যে ৯টি সিনিয়র কনসালটেন্ট ও অনুমোদিত ১২টি জুনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে ৮টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য।
এছাড়া ১টি আবাসিক ফিজিসিয়ান, ১টি আবাসিক সার্জন, ১টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ৩টি এ্যানেসস্থিয়া, প্যাথলজিস্ট, ৬টি মেডিকেল অফিসার, ৩টি সহকারী রেজিস্ট্রার, ৩টি ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, ১টি ডেন্টাল সার্জন, ১৪টি সহকারী সার্জন, ১টি উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক, ১টি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২টি নার্সিং সুপারভাইজার, ১টি পেশাগত থেরাপিস্ট, ২টি সহকারী নার্স, ১টি ক্যাশিয়ার, ১টি সহকারী হিসাব রক্ষক, ১টি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), ১টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), ১টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি), ১টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই), ১টি কম্পিউটার অপারেটর, ১টি ওয়ার্ড মাস্টার, ১টি রেকর্ড কিপার, ১টি লিলেন কিপার, ১টি টিকিট ক্লার্ক (আউট সোর্সিং), ২টি ড্রাইভার, ১টি জুনিয়র মেকানিক কাম পাম্প অপারেটর, ১টি ক্যাশ সরকার, ১৫টি অফিস সহায়ক, ১টি বাবুর্চি, ২৫টি পরিচ্ছন্ন কর্মী (আউট সোর্সিং), ২টি আয়া (আউট সোর্সিং), ৯টি দারোয়ান (আউট সোর্সিং) পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
তথ্য সূত্রে এক নজরে জানা গেছে, উক্ত হাসপাতালে অনুমোদিত সৃষ্ট ৪২৮টি পদের মধ্যে খালি আছে ১৩০টি পদ। খালি পদের মধ্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ৮টি জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবাপ্রার্থীরা। সেবা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অনুমোদিত ৪০টি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদে কর্মরত আছে মাত্র ১৮ জন। ১৮টি দারোয়ানের মধ্যে আছে মাত্র ৯ জন। হাসপাতালে অনুমোদিত সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ ১৭৬ জনের ১৭৫ জন কর্মরত আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষগণের কাছে একাধিকবার চাহিদা পত্র প্রেরন করা হয়েছে।
জালাল আহমেদ: 











