তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্বাধীনতা বুটক্যাম্প’।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টায় বরিশালের বিডিএস মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী এ বুটক্যাম্পে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৩০ জন তরুণ অংশ নেন।
আভাসের আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ (FREEDOM) প্রকল্পের আওতায় এ বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় উইমেনস রাইটস অর্গানাইজেশন পার্টনারদের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল কাউনিয়া থানার নারী ও শিশু ডেস্কের এএসআই রুমা পারভীন।
আরও উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি নাসরিন নাহার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মনজুরুল আলম, লাইসা মাহামুদ হেমা, আভাসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম এবং ডেপুটি পরিচালক জান্নাতুল নাইম ঐশিসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের জন্য বুটক্যাম্পটি ছিল শেখা, প্রশ্ন করা, হাতে-কলমে অনুশীলন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি উন্মুক্ত পরিসর। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘গুজব গোয়েন্দা চ্যালেঞ্জ’ (Rumour Detective Challenge)। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি যাচাই করেন। কোন তথ্য সন্দেহজনক হতে পারে, কীভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হয় এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে তারা হাতে-কলমে অনুশীলন করেন।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের পাশাপাশি দলগত কাজ ও যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ‘ফোন সেফটি ক্লিনিক’ সেশনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ফোন, অনলাইন অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। সহজ ও কার্যকর উপায়ে কীভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে তাদের ধারণা দেওয়া হয়।
বুটক্যাম্পে প্রযুক্তি-নির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) মোকাবিলায় সহায়তার পথ বা ‘Referral Pathway’ নিয়েও আলোচনা করা হয়। অনলাইনে হয়রানি বা ক্ষতির শিকার হলে কীভাবে নিরাপদে ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ভুক্তভোগীকে কীভাবে যথাযথ সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা যায় এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
দিন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বুটক্যাম্প থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগাবেন, সে বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পড়াশোনা ও দলগত বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকেও বুটক্যাম্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মোঃ ফেরদৌস: 











