১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় থেমে থেমে বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় উপকূলীয় গলাচিপায় থেমে থেমে বুষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে গলাচিপার সাথে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সীমিতভাবে চলাচল করছে। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিপি’র উপজেলা অফিস।

উপজেলার চরকাজল-বন্যাতলী খেয়াঘাটের কিবরিয়া মুন্সি বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে নদী খুব উত্তাল। মাঝে মধ্যে যাত্রী পারাপার করি। কিন্তু এখন বেশি খারাপ থাকায় আর পারাপার করা হয় না। নদী উত্তাল থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গলাচিপার হরিদেপুর খেয়া মাঝি গোপাল মজুমদার বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে তুফান থাকায় গলাচিপার গুরুত্বপূর্ণ হরিদেবপুর খেয়া নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করছি।’

গলাচিপা হরিদেবপুর খেয়াঘাটের মাঝি-শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বলেন, “আজ সকাল থেকে কিছু সময় খেয়া বন্ধ রেখেছিলাম। আমরা ৫৬ জন মাঝি, পালা করে প্রতিদিন ২৮ জন করে মাঝি খেয়ার দায়িত্ব পালন করি। আমরা যদি একেবারেই খেয়া বন্ধ রাখি তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? তাই কষ্ট হলেও সীমিত সংখ্যক খেয়া চালু রেখেছি।”

গলাচিপার রামনাবাদ নদীর জেলে ইব্রাহিম বলেন, “দুই দিন ধরে নদীতে অনেক তুফান। ছোট নৌকা হাওয়ায় আমি আজ মাছ ধরতে পারি নাই। দুই দিন মাছ ধরতে না পেরে পরিবার নিয়ে আজ কী খাব তা জানি না।”

নদী পার হতে না পেরে বন্যাতলী থেকে ফিরে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, “জরুরি কাজে তিনি সকালে গলাচিপা শহর থেকে বন্যাতলী খেয়াঘাটে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কোনো খেয়া ট্রলার চলাচল করছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার গলাচিপা শহরে ফিরে আসেন।”

এদিকে সিপিপি’র গলাচিপা উপজেলার টিম লিডার আবুহেনা মো. শোয়েব বলেন, “লঘুচাপটি নিম্বচাপে রূপ নিতে পারে। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আমরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে আছি। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

গলাচিপায় থেমে থেমে বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত

আপডেট সময়: ০৬:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় উপকূলীয় গলাচিপায় থেমে থেমে বুষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে গলাচিপার সাথে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সীমিতভাবে চলাচল করছে। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিপি’র উপজেলা অফিস।

উপজেলার চরকাজল-বন্যাতলী খেয়াঘাটের কিবরিয়া মুন্সি বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে নদী খুব উত্তাল। মাঝে মধ্যে যাত্রী পারাপার করি। কিন্তু এখন বেশি খারাপ থাকায় আর পারাপার করা হয় না। নদী উত্তাল থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গলাচিপার হরিদেপুর খেয়া মাঝি গোপাল মজুমদার বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে তুফান থাকায় গলাচিপার গুরুত্বপূর্ণ হরিদেবপুর খেয়া নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করছি।’

গলাচিপা হরিদেবপুর খেয়াঘাটের মাঝি-শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বলেন, “আজ সকাল থেকে কিছু সময় খেয়া বন্ধ রেখেছিলাম। আমরা ৫৬ জন মাঝি, পালা করে প্রতিদিন ২৮ জন করে মাঝি খেয়ার দায়িত্ব পালন করি। আমরা যদি একেবারেই খেয়া বন্ধ রাখি তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? তাই কষ্ট হলেও সীমিত সংখ্যক খেয়া চালু রেখেছি।”

গলাচিপার রামনাবাদ নদীর জেলে ইব্রাহিম বলেন, “দুই দিন ধরে নদীতে অনেক তুফান। ছোট নৌকা হাওয়ায় আমি আজ মাছ ধরতে পারি নাই। দুই দিন মাছ ধরতে না পেরে পরিবার নিয়ে আজ কী খাব তা জানি না।”

নদী পার হতে না পেরে বন্যাতলী থেকে ফিরে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, “জরুরি কাজে তিনি সকালে গলাচিপা শহর থেকে বন্যাতলী খেয়াঘাটে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কোনো খেয়া ট্রলার চলাচল করছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার গলাচিপা শহরে ফিরে আসেন।”

এদিকে সিপিপি’র গলাচিপা উপজেলার টিম লিডার আবুহেনা মো. শোয়েব বলেন, “লঘুচাপটি নিম্বচাপে রূপ নিতে পারে। পায়রা নদী বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আমরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে আছি। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।”