পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছয় জেলেকে উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে তিনি নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের মো. এমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার ১১ জন জেলেকে নিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। পরদিন রবিবার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর পাশ দিয়ে যাওয়া অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা ট্রলারের মালিক মো. এমাদুল সিকদারসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে ট্রলারে থাকা আরও ছয় জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন— হারুন (৪৫), এমাদুল (৪৫), ফোরকান (৫৫), আল আমিন (২২), সায়েম (২০) ও আকাশ (২৫)। তাদের সবার বাড়ি গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— ইমাদুল সিকদার (৪০), বাইজিদ (৩০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজীব (২৫)। তাদের নিরাপদে তীরে আনা হচ্ছে।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিখোঁজ জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার প্রতিনিধি আবু নাঈম নিখোঁজ জেলেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় ভিডিও কলে প্রতিমন্ত্রী নিজেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী: 













