১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপা হাসপাতালে গত মাসে ডায়রিয়ায় বৃদ্ধ ও শিশু রোগীর চাপ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গত একমাসে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় বৃদ্ধ সহ শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। গত মে ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ চরম আকার ধারণ করেছে। এ রোগে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

গলাচিপা হাসপাতালে এখন ভর্তি রয়েছে ১৫০ জন রোগী। এর মধ্যে ৩৬ জনই শিশু। এদের ডায়রিয়ার সঙ্গে বমিও বেড়েছে। অতিমাত্রায় গরম, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট ও পঁচা-বাসী খাবারকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ঔষধপত্র রয়েছে জানিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গলাচিপা
হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, একই বেডে দুই শিশু রোগী নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন আক্রান্তরা। গত মে মাস ও জুনের প্রথম সপ্তাহে ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এ হাসপাতালে। নতুন নতুন রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসছেন স্বজনরা।

বর্তমানে (সোমবার দুপুর পর্যন্ত) ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৬ জন, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে রয়েছে বাকি রোগীরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মোহাম্মদ ফেরদৌস (২৫) এর পিতা সিদ্দিকুর রহমান ফারুক জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্ট রয়েছে তারা। ঔষধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন বলেও জানান তারা। তবে একই বেডে একাধিক রোগীতে দ্রুত আরোগ্য লাভ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে। এতে ভালোর জন্য এসে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তানভীর (৩০) এর বাবা শফিক বলেন, মে মাসে গলাচিপা হাসপাতালে আমার ছেলেকে ভর্তি করেছি। ডাক্তারদের কাছ থেকে সেবা পেয়েছি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রিপা বেগম (১৮) এর বাবা সেলিম বলেন, ডাক্তারদের পাশাপাশি সেবিকারাও অনেক পরিশ্রম করে। তাদের সেবা পেয়ে আমরা আনন্দিত।

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স সোনেকা রানী বলেন, “মে মাসে ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগ সংখ্যা বেড়েছিল । এখন অনেকটাই কম।”

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, “অতিমাত্রায় গরম, বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট ও পঁচা-বাসী খাবার খাওয়ার কারনে ডায়রিয়া প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে।” তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আক্রান্ত রোগীদের স্যালাইন, জিঙ্ক (সিরাপ ট্যাবললেট) ও বেশি আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন তারা। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধপত্র রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে জামায়াত নেতাকে থানায় হস্তান্তর, বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে মুক্তি!

গলাচিপা হাসপাতালে গত মাসে ডায়রিয়ায় বৃদ্ধ ও শিশু রোগীর চাপ

আপডেট সময়: ০৭:১৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গত একমাসে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় বৃদ্ধ সহ শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। গত মে ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ চরম আকার ধারণ করেছে। এ রোগে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

গলাচিপা হাসপাতালে এখন ভর্তি রয়েছে ১৫০ জন রোগী। এর মধ্যে ৩৬ জনই শিশু। এদের ডায়রিয়ার সঙ্গে বমিও বেড়েছে। অতিমাত্রায় গরম, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট ও পঁচা-বাসী খাবারকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ঔষধপত্র রয়েছে জানিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গলাচিপা
হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, একই বেডে দুই শিশু রোগী নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন আক্রান্তরা। গত মে মাস ও জুনের প্রথম সপ্তাহে ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এ হাসপাতালে। নতুন নতুন রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসছেন স্বজনরা।

বর্তমানে (সোমবার দুপুর পর্যন্ত) ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৬ জন, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে রয়েছে বাকি রোগীরা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মোহাম্মদ ফেরদৌস (২৫) এর পিতা সিদ্দিকুর রহমান ফারুক জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্ট রয়েছে তারা। ঔষধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন বলেও জানান তারা। তবে একই বেডে একাধিক রোগীতে দ্রুত আরোগ্য লাভ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে। এতে ভালোর জন্য এসে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তানভীর (৩০) এর বাবা শফিক বলেন, মে মাসে গলাচিপা হাসপাতালে আমার ছেলেকে ভর্তি করেছি। ডাক্তারদের কাছ থেকে সেবা পেয়েছি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রিপা বেগম (১৮) এর বাবা সেলিম বলেন, ডাক্তারদের পাশাপাশি সেবিকারাও অনেক পরিশ্রম করে। তাদের সেবা পেয়ে আমরা আনন্দিত।

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স সোনেকা রানী বলেন, “মে মাসে ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগ সংখ্যা বেড়েছিল । এখন অনেকটাই কম।”

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, “অতিমাত্রায় গরম, বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট ও পঁচা-বাসী খাবার খাওয়ার কারনে ডায়রিয়া প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে।” তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আক্রান্ত রোগীদের স্যালাইন, জিঙ্ক (সিরাপ ট্যাবললেট) ও বেশি আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন তারা। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধপত্র রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।