১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে কলেজ শিক্ষার্থী হ*ত্যার ঘটনায় প্রধান দুই অভিযুক্ত ১২ ঘন্টার মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানাধীন সুবিদখালী সরকারি কলেজের পাশে বালুর মাঠে নৃশংসভাবে ঢাকার রমিজউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র সাইমন ইসলাম সিয়াম (১৭) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম সিয়াম গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়ায় তাদের নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। গতকাল দুপুর আনুমানিক সোয়া ৩ টার দিকে ভিকটিম ও তার খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন সুবিদখালী সরকারি কলেজের উত্তর পাশে বালুর মাঠে ঘুরতে গেলে সেখানে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করে। তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে তর্কে লিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। মারধরের ফলে সিয়াম গুরুতর আহত হলে অভিযুক্তরা নিজেদের মোটরসাইকেলে করে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ৫:৪৫ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা ভিকটিমের খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পিটিয়ে আহত করে, যিনি শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় গতকাল রাতেই মামলা দায়ের করেন।

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর যৌথ চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। আসামিরা পালানোর সব ধরনের চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের পালানোর রুট এবং সম্ভাব্য সকল কৌশল নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ এবং র‌্যাব-৮, বরিশাল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। সম্মিলিত অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ির ধোলাই পাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত মামলার ০১ নং অভিযুক্ত মো: রাইয়ান, পিতা-আঃ সালাম, সাং-উত্তর সুবিদখালী এবং দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো: রাশেদ, পিতা-মোঃ রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সাং-ডিবুয়াপুর, উভয়ের থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী’কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব সবসময় সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং সন্ত্রাসীদের দমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলার বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে র‍্যাব-৮ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান র‍্যাব-৮ বরিশাল এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

পটুয়াখালীতে কলেজ শিক্ষার্থী হ*ত্যার ঘটনায় প্রধান দুই অভিযুক্ত ১২ ঘন্টার মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার

আপডেট সময়: ১২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানাধীন সুবিদখালী সরকারি কলেজের পাশে বালুর মাঠে নৃশংসভাবে ঢাকার রমিজউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র সাইমন ইসলাম সিয়াম (১৭) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম সিয়াম গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়ায় তাদের নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। গতকাল দুপুর আনুমানিক সোয়া ৩ টার দিকে ভিকটিম ও তার খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন সুবিদখালী সরকারি কলেজের উত্তর পাশে বালুর মাঠে ঘুরতে গেলে সেখানে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করে। তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে তর্কে লিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। মারধরের ফলে সিয়াম গুরুতর আহত হলে অভিযুক্তরা নিজেদের মোটরসাইকেলে করে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ৫:৪৫ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা ভিকটিমের খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পিটিয়ে আহত করে, যিনি শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় গতকাল রাতেই মামলা দায়ের করেন।

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর যৌথ চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। আসামিরা পালানোর সব ধরনের চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের পালানোর রুট এবং সম্ভাব্য সকল কৌশল নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ এবং র‌্যাব-৮, বরিশাল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। সম্মিলিত অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ির ধোলাই পাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত মামলার ০১ নং অভিযুক্ত মো: রাইয়ান, পিতা-আঃ সালাম, সাং-উত্তর সুবিদখালী এবং দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো: রাশেদ, পিতা-মোঃ রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সাং-ডিবুয়াপুর, উভয়ের থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী’কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব সবসময় সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং সন্ত্রাসীদের দমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলার বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে র‍্যাব-৮ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান র‍্যাব-৮ বরিশাল এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান।