০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য” -পর্যটন কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ০৯:১৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো পটুয়াখালীকে পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান। তিনি বলেন, “পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য।”

সোমবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে “পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’”ও জেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

পূজার ছুটিকে সামনে রেখে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে “পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬”। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনকে ঘিরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।

সভায় মো. শামিমুজ্জামান বলেন, “কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রম জেলার অন্যান্য এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নদীভিত্তিক পর্যটন, ইকোট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

তিনি বলেন, “এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।”

গলাচিপাসহ নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে হোমস্টে ও স্থানীয় জীবনযাত্রাভিত্তিক পর্যটন চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত না করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সভায় উপস্থিত বক্তারা। পর্যটনকেন্দ্রে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় পটুয়াখালী শহরের আশপাশে পর্যটন অবকাঠামো তৈরির একটি পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট ও ইপিজেডকে ঘিরে কয়েক একর জমিতে মিনি পার্ক ও আবাসন সুবিধাসহ একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হয়।

পর্যটন খাতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

Tag:
জনপ্রিয়

গলাচিপায় মাটিভাংগা-বদনাতলী সড়কের বেহাল দশা; দ্রুত সংস্কারের দাবিতে অসংখ্য স্থানীয়দের মানববন্ধন

“কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য” -পর্যটন কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান

আপডেট সময়: ০৯:১৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কুয়াকাটার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো পটুয়াখালীকে পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান। তিনি বলেন, “পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য।”

সোমবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে “পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’”ও জেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

পূজার ছুটিকে সামনে রেখে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে “পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬”। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনকে ঘিরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।

সভায় মো. শামিমুজ্জামান বলেন, “কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রম জেলার অন্যান্য এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নদীভিত্তিক পর্যটন, ইকোট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

তিনি বলেন, “এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।”

গলাচিপাসহ নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে হোমস্টে ও স্থানীয় জীবনযাত্রাভিত্তিক পর্যটন চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত না করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সভায় উপস্থিত বক্তারা। পর্যটনকেন্দ্রে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় পটুয়াখালী শহরের আশপাশে পর্যটন অবকাঠামো তৈরির একটি পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট ও ইপিজেডকে ঘিরে কয়েক একর জমিতে মিনি পার্ক ও আবাসন সুবিধাসহ একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হয়।

পর্যটন খাতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।