০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“অপ্রাপ্তির অলিখিত অধ্যায়”-একটি হৃদয়ের গহীন কোণের এক নীরব আকুতি নিয়ে না পাওয়ার কষ্টের একটি কবিতা

অপ্রাপ্তির অলিখিত অধ্যায়

তুমি জানো না—
কোন অনামা ঋতুর নিভৃত প্রহরে
তোমার মুখখানি এসে
আমার হৃদয়ের গোপন অলিন্দে
চিরস্থায়ী হয়ে বসেছিল।
তারপর থেকে
নিশীথের প্রতিটি নক্ষত্রে তোমার প্রতিবিম্ব,
জোছনার প্রতিটি ধূসরতায় তোমার অবয়ব;
আমার নির্জনতার সমস্ত অভিধান
কেবল তোমার নামেই পরিপূর্ণ।

তুমি জানো না—
তোমার একটি ছবির সামনে বসে
কতবার সময়ের প্রবাহ থামিয়ে দিয়েছি;
অশ্রুর লবণাক্ত জলে
ঝাপসা হয়েছে তোমার মুখ,
তবু মুছে যায়নি তোমাকে না পাওয়ার ব্যথা।

কত কথা ছিল—
যেগুলো ঠোঁটের দোরগোড়ায় এসে
নৈঃশব্দ্যের কাছে পরাজিত হয়েছে।
এখন আর বলবারও অবকাশ নেই;
তুমি আজ অন্য এক জীবনের পূর্ণতা,
আর আমি—
তোমার অনুচ্চারিত অধ্যায়ের
এক অদৃশ্য পঙ্‌ক্তি।

তোমার কপালে আজ
অন্যের সিঁদুরের দীপ্তি;
সে দীপ্তির দিকে তাকালে
আমার সমস্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
ধূসর সন্ধ্যার মতো নিভে যায়।
তবু তোমার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।

অভিযোগ কেবল বিধাতার কাছে।
কেন এমন এক হৃদয় দিলে,
যে হৃদয় তোমাকে ভালোবাসবে—
অথচ তোমাকে পাওয়ার অধিকার
কখনোই পাবে না?

ধর্মের দুর্ভেদ্য প্রাচীর,
সময়ের নির্মম বিধান,
আর নিয়তির অনমনীয় স্বাক্ষর—
সবকিছুর মাঝখানে
আমাদের সম্ভাব্য গল্পটি
জন্মের আগেই যেন নির্বাসিত হলো।

আমি জানি—
তোমাকে পাওয়া আমার নিয়তিতে নেই।
তবু বিস্ময় জাগে,
কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়ার জন্য
কেন এত গভীর করে
হৃদয়ের ভেতর স্থান দিতে হয়?

তুমি থেকো তোমার আপন পৃথিবীতে—
সুখের দীপশিখায় আলোকিত হয়ে।
আর আমি?
আমি তোমার স্মৃতির অনুর্বর প্রান্তরে
একটি নামহীন বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকব—
ফুলহীন, ফলহীন,
তবু শিকড়ে তোমারই নাম নিয়ে।

Tag:
জনপ্রিয়

পটুয়াখালীর কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিশাল সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“অপ্রাপ্তির অলিখিত অধ্যায়”-একটি হৃদয়ের গহীন কোণের এক নীরব আকুতি নিয়ে না পাওয়ার কষ্টের একটি কবিতা

আপডেট সময়: ০৩:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রাপ্তির অলিখিত অধ্যায়

তুমি জানো না—
কোন অনামা ঋতুর নিভৃত প্রহরে
তোমার মুখখানি এসে
আমার হৃদয়ের গোপন অলিন্দে
চিরস্থায়ী হয়ে বসেছিল।
তারপর থেকে
নিশীথের প্রতিটি নক্ষত্রে তোমার প্রতিবিম্ব,
জোছনার প্রতিটি ধূসরতায় তোমার অবয়ব;
আমার নির্জনতার সমস্ত অভিধান
কেবল তোমার নামেই পরিপূর্ণ।

তুমি জানো না—
তোমার একটি ছবির সামনে বসে
কতবার সময়ের প্রবাহ থামিয়ে দিয়েছি;
অশ্রুর লবণাক্ত জলে
ঝাপসা হয়েছে তোমার মুখ,
তবু মুছে যায়নি তোমাকে না পাওয়ার ব্যথা।

কত কথা ছিল—
যেগুলো ঠোঁটের দোরগোড়ায় এসে
নৈঃশব্দ্যের কাছে পরাজিত হয়েছে।
এখন আর বলবারও অবকাশ নেই;
তুমি আজ অন্য এক জীবনের পূর্ণতা,
আর আমি—
তোমার অনুচ্চারিত অধ্যায়ের
এক অদৃশ্য পঙ্‌ক্তি।

তোমার কপালে আজ
অন্যের সিঁদুরের দীপ্তি;
সে দীপ্তির দিকে তাকালে
আমার সমস্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
ধূসর সন্ধ্যার মতো নিভে যায়।
তবু তোমার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।

অভিযোগ কেবল বিধাতার কাছে।
কেন এমন এক হৃদয় দিলে,
যে হৃদয় তোমাকে ভালোবাসবে—
অথচ তোমাকে পাওয়ার অধিকার
কখনোই পাবে না?

ধর্মের দুর্ভেদ্য প্রাচীর,
সময়ের নির্মম বিধান,
আর নিয়তির অনমনীয় স্বাক্ষর—
সবকিছুর মাঝখানে
আমাদের সম্ভাব্য গল্পটি
জন্মের আগেই যেন নির্বাসিত হলো।

আমি জানি—
তোমাকে পাওয়া আমার নিয়তিতে নেই।
তবু বিস্ময় জাগে,
কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়ার জন্য
কেন এত গভীর করে
হৃদয়ের ভেতর স্থান দিতে হয়?

তুমি থেকো তোমার আপন পৃথিবীতে—
সুখের দীপশিখায় আলোকিত হয়ে।
আর আমি?
আমি তোমার স্মৃতির অনুর্বর প্রান্তরে
একটি নামহীন বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকব—
ফুলহীন, ফলহীন,
তবু শিকড়ে তোমারই নাম নিয়ে।