১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্তে/জনা: কু/ড়াল সহ বহিরাগত শিক্ষার্থী আ/টক

পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে কুড়াল সহ সিফাত (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ দাখিল পরীক্ষার্থী সহ মোট ছয় জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পরে উপজেলার নাজিরপুর ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং ছোট ডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে আটককৃত দাখিল পরীক্ষার্থীরা হলেন মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন। তারা রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন, তারা বড় ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় খাতা দেখাকে কেন্দ্র করে দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। যা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল-২৬) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও পরীক্ষা শেষে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

জানা যায়, বড় ডালিমা দাখিল মাদরাসা ও রামনগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধানদী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুল্লাহ দ্রুত পুলিশের সহযোগিতা নেন। পরে কেন্দ্রের সামনে অবস্থানরত দেশীয় অস্ত্রসহ ওই কিশারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসহ পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মু. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মু. আ. রব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিফাত স্বীকার করেছে, বড় ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে সে কুড়াল নিয়ে আসে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছিল। মুলত এরাই কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। এদের কারনেই ঘটছে একেরপর এক নেক্কারজনক ঘটনা। এদের আবার শেল্টার দিচ্ছে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিরা।

এবিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আটককৃতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে ও পরিবারের অভিভাবকদের ডেকে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতে এহেন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াবে মর্মে মুচলেকা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

পটুয়াখালী জেলা বার’র নির্বাচন সম্পন্ন; সবকটিতে বিজয়ী বিএনপি প্যানেল

বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্তে/জনা: কু/ড়াল সহ বহিরাগত শিক্ষার্থী আ/টক

আপডেট সময়: ০৯:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে কুড়াল সহ সিফাত (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ দাখিল পরীক্ষার্থী সহ মোট ছয় জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পরে উপজেলার নাজিরপুর ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং ছোট ডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে আটককৃত দাখিল পরীক্ষার্থীরা হলেন মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন। তারা রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন, তারা বড় ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় খাতা দেখাকে কেন্দ্র করে দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। যা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল-২৬) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও পরীক্ষা শেষে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

জানা যায়, বড় ডালিমা দাখিল মাদরাসা ও রামনগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধানদী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুল্লাহ দ্রুত পুলিশের সহযোগিতা নেন। পরে কেন্দ্রের সামনে অবস্থানরত দেশীয় অস্ত্রসহ ওই কিশারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসহ পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মু. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মু. আ. রব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিফাত স্বীকার করেছে, বড় ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে সে কুড়াল নিয়ে আসে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছিল। মুলত এরাই কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। এদের কারনেই ঘটছে একেরপর এক নেক্কারজনক ঘটনা। এদের আবার শেল্টার দিচ্ছে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিরা।

এবিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আটককৃতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে ও পরিবারের অভিভাবকদের ডেকে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতে এহেন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াবে মর্মে মুচলেকা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”